ফেঞ্চুগঞ্জে চা শ্রমিক নেতাকে মারধরের অভিযোগে বিক্ষোভ, বাংলো ভাঙচুর
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৯:৫৭ অপরাহ্ন

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি: ফেঞ্চুগঞ্জের মনিপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারায়ণ নাইডুকে মারধরের অভিযোগে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করেছেন বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক। এ সময় তারা বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণের দাবিতে ব্যবস্থাপকের বাংলো ও সহকারী ব্যবস্থাপকের বাংলোয় ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
শনিবার রাতে শাহজালাল সার কারখানা বাজারে নারায়ণ নাইডুকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে বাগানের শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে বাজারে ছুটে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে শ্রমিকরা বাগানে ফিরে যান।
পরদিন রোববার সকালে ঘটনার জন্য বাগান ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলামকে দায়ী করে শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের বাংলোয় গিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। শ্রমিকদের আগমনের খবর পেয়ে দুই ব্যবস্থাপক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত বাংলো থেকে সরে যাওয়ায় হামলা থেকে রক্ষা পান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণ নাইডুর অভিযোগ, মনিপুর চা বাগানের সাবেক আবাসিক চিকিৎসক আব্দুল বাসিতের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর তাকে বাগান থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসক তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। চিকিৎসক আব্দুল বাসিতের ইন্ধনে সারকারখানা বাজারের মমতাজ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ফুয়াদ আহমদ তার কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন নাইডু।
নাইডু জানান, ঘটনার দিন রাতে ফুয়াদ তাকে হাত ধরে মমতাজ ফার্মেসির সামনে নিয়ে গিয়ে লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন। বিষয়টি তিনি ফোনে বাগানের লোকজনকে জানালে শ্রমিকরা সেখানে ছুটে আসেন। তবে ফুয়াদ আহমদ মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনার সময় নারায়ণ নাইডু কয়েকজনকে নিয়ে তার ফার্মেসিতে এসে সেখানে থাকা আব্দুল বাসিতকে দেখে ক্ষিপ্ত হন এবং তাকে ফার্মেসি থেকে বের করে দিতে বলেন। এ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও তিনি নারায়ণ নাইডুকে মারধর করেননি। ভুল চিকিৎসায় চা বাগানে শ্রমিক মৃত্যুর অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি মনিপুর চা বাগানে ওষুধ সরবরাহ করছেন এবং বাগানের কাছে তার পাওনা টাকা রয়েছে।
মনিপুর চা বাগানের সিনিয়র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, নারায়ণ নাইডু বাগানের বাইরের একটি বিষয় নিয়ে তার কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত হওয়ায় তিনি তা সমাধানের দায়িত্ব নিতে পারেননি বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, রোববার উত্তেজিত শ্রমিকরা তার ও সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আসাদুল ইসলামের বাংলোয় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোভাবে সরে গিয়ে তারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, বর্তমানে মনিপুর চা বাগানের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






