সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড: থামছে না এনামুলের মায়ের কান্না
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৮:৪৭ অপরাহ্ন

আব্দুর রব, বড়লেখা : বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত না থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে এই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে কারাঅন্তরীণ নিরাপত্তাপ্রহরী হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের মা ফাতেমা বেগমের কান্না যেন থামছে না।
১২ সেপ্টেম্বরের জালালাবাদে ছেলের মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার করুণ অবস্থার কাহিনী ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতিবেদনে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত না থাকার খবরে তিনি আরো ভেঙ্গে পড়েছেন। ছেলের নাম ধরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, জ্ঞান ফিরলেই বলে উঠেন আমার ছেলের কি অপরাধ ছিল ? এই ঘটনায় জড়িয়ে স্বামীকে পঙ্গু করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। হারাতে হয়েছে শাশুড়িকে। এখন ছেলের জীবিত মুখ দেখা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।
রোববার দুপুরে বড়লেখা উপজেলার পুর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামে হুমায়ুন কবীর ওরফে এনামুলের বাড়িতে গেলে দেখা যায় মা ফাতেমা বেগমের কান্নায় এলাকায় বিষাদময় এক পরিবেশ বিরাজ করছে। ছেলে সাহিন আহমদ ও লাভলু আহমদ মাকে কোনোভাবেই যেন সান্তনা দিতে পারছেন না।
হুমায়ুনের বড়ভাই সাহিন আহমদ জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে হুমায়ুন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে হুমায়ুন জড়িত নয় এমন খবর পেয়ে মা নিজেকে সামাল দিতে পারছেন না। বারবার একটি কথাই বলছেন, ১৪টি বছর ছেলের কোনো খোঁজ নেইনি। কোথায় আছে, কিভাবে আছে তার কাছে নিয়ে যেতে, তাকে কারাগার থেকে বের করে আনতে। কিন্তু ঢাকায় কারাগারে যাওয়ার তাদের সেই সামর্থ্য নেই। নেই আইনজীবি ধরার টাকা-পয়সা। বাবার চিকিৎসায় সব শেষ করে দিয়েছেন। তবুও বাঁচাতে পারেননি।
সাহিন আহমদ জানান, ২০১২ সালে বাবাকে ধরে নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্য এক মুহুর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে পারিনি, রাতে ঘুমাইনি। বাবা ফিরে আসার পর বলেছেন, যারা ধরে নিয়ে ছিল তারা বলেছে, নির্যাতনের ব্যাপারে যেন কাউকে কোনো কিছু না বলেন। প্রায় এক মাস তিনি কোনো কথা বলেননি। কাউকে চিনতেও পারেননি। এর তিন মাস পর হুমায়ুন গ্রেফতারের খবর পাই। কিন্ত ভয়ে আমরা তার কোনো খোঁজ নিতে যায়নি। বাবার চিকিৎসায় সর্বস্ব খুইয়েছি। আমার দিনমজুর মানুষ। কিভাবে ভাইয়ের খোঁজ নিব, কিভাবে ঢাকায় যাব আর উকিল ধরবো। এই কয়েকদিন ধরে মায়ের মূর্ছা যাওয়া, জ্ঞান হারানো, পাগলামি কথা বার্তায় আমরা কেউ কাজ-কর্মে যেতে পারছি না। দু’বেলা দুমুটো খেয়ে বাঁচাই এখন আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।






