২০৬১ সালে দেশে প্রতি ৪ জনে ১ জন হবেন প্রবীণ
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৫:০৬ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে প্রবীণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে বর্তমানে দেশে এ বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৩ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। জনসংখ্যাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে এ সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়বে। গ্লোবাল এজওয়াচ ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় আড়াই কোটি। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘পপুলেশন প্রজেকশন অব বাংলাদেশ : ডায়নামিকস অ্যান্ড ট্রেন্ডস ২০১১-২০৬১’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তেমন না বাড়লেও ২০২১ সাল থেকে তা বাড়তে শুরু করে। ২০২৬ সাল থেকে এই বৃদ্ধি আরও দ্রুত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিবিএস।
বিবিএসের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিল প্রবীণ মানুষ। ২০১৬ সালে এ হার কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশে। ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরপর ২০২৬ সালে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর হার বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশে। ২০৩১ সালে তা হবে ১১ দশমিক ১০ শতাংশ, ২০৩৬ সালে ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ২০৪১ সালে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ২০৪৬ সালে ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০৫১ সালে এ হার দাঁড়াতে পারে ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশে, ২০৫৬ সালে ২১ দশমিক ৭১ শতাংশে এবং ২০৬১ সালে ২৪ দশমিক ৮১ শতাংশে। অর্থাৎ, আগামী ৩৫ বছরের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রবীণ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউনিসেফের ২০২১ সালে প্রকাশিত ‘পেয়িং ফরওয়ার্ড অ্যান্ড ইনভেস্টিং ইন চিলড্রেন নাউ: ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জেস ইন বাংলাদেশ—ট্রেন্ডস অ্যান্ড পলিসি ইমপ্লিকেশনস’ প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালে বাংলাদেশ ‘এজিং সোসাইটি’ বা বয়স্ক সমাজে প্রবেশ করবে।
ওই বছর দেশে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর হার ৭ শতাংশে পৌঁছাবে। ২০৪৭ সালে এ হার বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, মাত্র ১৮ বছরের ব্যবধানে ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর অনুপাত দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি পলিসি সাপোর্ট কর্মসূচির এক প্রতিবেদনের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৫০ সালে দেশে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, দেশে সাত বিভাগে সাতটি, জেলায় ৫৬টি, উপজেলায় ২৭টি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে দুটি—সব মিলিয়ে ৯২টি প্রবীণ নিবাস বা বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কতজন প্রবীণ বসবাস করছেন, তার সমন্বিত কোনো সরকারি বা বেসরকারি হিসাব নেই। এর বাইরে বেসরকারি উদ্যোগেও আরও কিছু প্রবীণ নিবাস রয়েছে।
প্রবীণের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নানাবিধ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে বয়স্কদের অংশ আগামীতে আরও বাড়বে। এর ফলে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের খুব বেশি প্রস্তুতি এখনো দেখা যাচ্ছে না।






