বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি ড. শফিক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৭:২৩ অপরাহ্ন

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া : গবেষণা ও উদ্ভাবনে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি অধ্যাপক প্রফেসর ড. শফিক সিদ্দিকী। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে স্থান পেয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ গবেষণাজীবনে ড. শফিক সিদ্দিকী ১৫০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন জার্নালে ১০৮টি, নন-ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে ২২টি এবং নন-ইনডেক্সড প্রকাশনা রয়েছে ২০টি। তাঁর চারটি পেটেন্ট ও চারটি ট্রেডমার্ক রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় তিনি ৩৯টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন।
ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সাবাহতে (ইউএমএস) দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাস্টার্স ও স্নাতক পর্যায়ে ১২টি কোর্স পড়িয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ও এমএসসি পর্যায়ে ২৭ জন শিক্ষার্থী গবেষণা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
গবেষণার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩৭টি গবেষণা অনুদান পেয়েছেন ড. শফিক। এর মধ্যে আটটি প্রকল্প সরাসরি কমিউনিটি ও শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গবেষণার আন্তর্জাতিক প্রভাবের অন্যতম সূচক সাইটেশনেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবস্থান। বর্তমানে স্কোপাসে তাঁর এইচ-ইনডেক্স ৩৩ এবং গুগল স্কলারে ৪০।
মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসরে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আমন্ত্রণে ‘ভিভিফাই’ ও ‘ট্রিয়াল’ নামের গবেষণালব্ধ পণ্য নিয়ে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেন তিনি। গবেষণালব্ধ পণ্যকে বাজারে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও কাজ করছেন ড. শফিক। তাঁর উদ্ভাবিত কিছু পণ্য ইতোমধ্যে বাজারজাত হয়েছে।
মিহাসে তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. শফিক সিদ্দিকী বলেন, “তুমি নিজেকে যতটুকু সক্ষম বলে মনে করো, তার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারো। সংকল্পকে দৃঢ় করো এবং প্রচেষ্টা অবিরাম ও ধারাবাহিক রাখো। লক্ষ্যের প্রতি অটল থাকলে একদিন অবশ্যই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।”
বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে ২৫ বার মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য পেয়েছেন ৭০টি পুরস্কার। এর মধ্যে সাবাহ রাজ্যের ‘এসই কিনাবালু ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’, কোরিয়া ইনভেনশন একাডেমির বিশেষ ও স্বর্ণ পুরস্কার, জার্মানির আইইএনএ-২০২১ পুরস্কার, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৫ সালের উদ্যোক্তা প্রকল্প পুরস্কার, পিইসিপিটিএ-২০১৫ ও ২০১৯ এবং আইটিইএক্স-২০১৯-এর স্বর্ণপদক উল্লেখযোগ্য।
২০১৪ সালে তিনি প্রসপার-নেট-স্কোপাস তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৭ সালে আইএসআই ও স্কোপাস-সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে সর্বাধিক প্রকাশনাসম্পন্ন শীর্ষ পাঁচ লেখকের তালিকায়ও স্থান পান। ২০২৬ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে স্কোপাস-সূচিবদ্ধ জার্নালে প্রকাশনার জন্য ইউএমএসের সর্বোচ্চ সাইটেশন পুরস্কার অর্জন করেন ড. শফিক। এর আগে ২০১২ ও ২০২১ সালে তিনি ইউএমএসের উৎকৃষ্ট সেবা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ায় সেরা স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর স্বীকৃতিও অর্জন করেন তিনি।
গবেষণা, শিক্ষকতা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ ও বাণিজ্যিকীকরণের ক্ষেত্রেও কাজ করছেন ড. শফিক। গবেষণা থেকে উদ্ভাবন এবং সেখান থেকে শিল্প ও ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অন্তর্ভুক্তি তাঁর গবেষণাকর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। শিক্ষকতা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণÑসব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের অবদানের একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।





