সীমান্তে মিয়ানমারের গোলা, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৯:৫৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : সীমান্তের ওপারের গোলাগুলি এখন আর শুধু দূরের সংঘাত নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে ছোড়া মর্টারের গোলা মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে এসে পড়ছে। এর সঙ্গে সীমান্ত আকাশে অজ্ঞাত ড্রোনের আনাগোনা বাড়ায় আতঙ্ক আরও তীব্র হয়েছে। গোলার শব্দ ও ড্রোনের উপস্থিতিতে টেকনাফ ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী জনপদে তৈরি হয়েছে থমথমে পরিস্থিতি; নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের কথাও ভাবছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের রাখাইন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জান্তা বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ছোড়া ভারী মর্টারের গোলা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে পড়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামরিক পরিভাষায় এসব ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বা ‘কোলেটারাল ড্যামেজ’ হিসেবে দেখা হলেও বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।
পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো সীমান্তে অজ্ঞাত ড্রোনের আনাগোনা। এসব ড্রোনের উদ্দেশ্য ও পরিচয় স্পষ্ট না হওয়ায় সীমান্তবাসীর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও বাড়ছে সতর্কতা। সীমান্তের ওপারে সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই গোলাবারুদ, অস্ত্র ও অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনীও নানা চাপের মুখে রয়েছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে একের পর এক অবস্থান হারাচ্ছে জান্তা বাহিনী। এরই মধ্যে মিয়ানমারের কিছু সেনাসদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ, নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢল এবং সীমান্তপথে অস্ত্র-মাদকসহ অবৈধ পণ্য প্রবেশের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এঅবস্থায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে না জড়িয়ে দেশের ভূখণ্ড ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে গোলাবর্ষণের প্রতিটি ঘটনায় মিয়ানমারের কাছে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা অবস্থানের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাই এখন বাংলাদেশের প্রধান হাতিয়ার। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যাতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে বাংলাদেশকে।





