রোজার আগে ভোট চায় ইসি, সরকারের লক্ষ্য জুন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০:২৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : আগামী বছরের রমজানের আগেই তিন ধাপে প্রায় ২ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম ধাপ, চতুর্থ সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপ এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় ধাপের ভোট হতে পারে। প্রতি ধাপে প্রায় ৭০০-৮০০ ইউপিতে ভোট আয়োজনের চিন্তা করছে কমিশন। একই সময়ে জানুয়ারিতে এক ধাপে পৌরসভা নির্বাচনও করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের জন্য প্রাথমিকভাবে আগামী ৩ জানুয়ারি ভোটের তারিখ ভাবা হয়েছিল। পরে সময়সূচি কয়েক দিন পিছিয়ে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ভোট নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এরপর জানুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপ এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তৃতীয় ধাপের ভোট আয়োজন করতে চায় ইসি। তিন ধাপে মোট ইউপির সংখ্যা আনুমানিক ২ হাজার হতে পারে; সংখ্যাটি ২০০টির মতো কমবেশি হতে পারে। দেশে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউপি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, রমজানের আগেই তিন ধাপে ইউপি নির্বাচন করার বিষয়টি নিশ্চিত। প্রথম ধাপের জন্য ৩ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হলেও সময়সূচি তিন-চার দিন পেছানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তিন ধাপে নির্বাচন আয়োজনের মূল পরিকল্পনায় পরিবর্তন হচ্ছে না।
তবে ইসির এই পরিকল্পনার সঙ্গে সরকারের ঘোষিত সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। গত ১ অক্টোবর গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ইসিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও বাজেট দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ইসি জানিয়েছিল, সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর। পরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তমন্ত্রণালয় সভার পরও ইসি জানায়, উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
দেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউপির মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩টির এবং আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও ১ হাজার ৪৮টির মেয়াদ শেষ হবে। স্থানীয় সরকার (ইউপি) আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে বিপুলসংখ্যক ইউপির নির্বাচন সামনে রেখে সময় নির্ধারণ এখন ইসির জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত ভোটের ৪৫-৫০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হলেও এবার সময় কম থাকায় ভোটের প্রায় ৩৫ দিন আগে তফসিল দেওয়ার চিন্তা করছে ইসি। প্রার্থীদের প্রচারের সময়ও সর্বোচ্চ ২১ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করার পরিকল্পনা রয়েছে।





