প্রতিরাতে ভাঙন আতঙ্কে ঘুমান কুশিয়ারা নদীপারের মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৯:১৬ অপরাহ্ন

তোফায়েল আহমদ, বিয়ানীবাজার : রাতে ঘুমাতে গেলেই ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামের কুশিয়ারা নদীপারের মানুষের। গত দুই দিনের ভয়াবহ নদীভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার। এ সময় তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছেন।
শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও কমবে-এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিয়ানীবাজারে দেখা যাচ্ছে এর উল্টো চিত্র। পানি কমলেও ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীর পাড়, সড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমি। এতে নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর দেউলগ্রামে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে গ্রামের প্রধান সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তেই নদীগর্ভে চলে যায় স্থানীয়দের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই পথের একটি অংশ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বাকি অংশও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এতে প্রায় এক হাজার পরিবারের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী রাব্বি বলে, ‘এই সড়ক দিয়ে আমরা স্কুলে যাতায়াত করি। এখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে খুব ভয় লাগে।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই নদীর পাড়ের কোনো না কোনো অংশ ভেঙে পড়ছে। কুড়ারবাজার ইউনিয়নের গোবিন্দশ্রী ও উত্তর আকাখাজানা, শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল, বালিঙ্গা ও কোনাশালেশ্বর এবং দুবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরিয়া ও নয়া দুবাগ এলাকাতেও একই ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে।
নদীভাঙনের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দেউলগ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়ছল আহমদ বলেন, গত সোমবারের ভাঙন ছিল অস্বাভাবিক। চোখের সামনে রাস্তা ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। আমার জন্মের পর এমন ভাঙন দেখিনি। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে আমরা ভিটেমাটি হারাব। যেকোনো সময় আমার দোকানও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। তাই সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তোতা বলেন, নদীভাঙনের কবলে রয়েছে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা। তবে দেউলগ্রামে ভাঙনের ভয়াবহতা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইউএনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত অস্থায়ী ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেবে।






