ভারতের ৫০ কিলো ভেতরে চীনা সেনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৮:৫১ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ভেতরে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চীনা সেনাবাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তাঁর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুু। সীমান্তে চীনের অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার বসিরাম সিরাম অভিযোগ করেন, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার কয়েকটি এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সীমান্তের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সিরাম জানান, গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। ইটানগর থেকে নাচো হয়ে লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় গিয়ে তাঁরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
ওই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সিরাম দাবি করেন, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে পাহাড়ের উঁচু এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পাহাড়ের চূড়ায় চীনা সেনাদের দেখা গেলেও ভারতীয়রা রয়েছেন নিচের দিকে।
এর আগে গত জুনে স্থানীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অভিযোগ করেছিল, তাকসিংয়ের কাছে চীনা সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বেড়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। আগস্টে অরুণাচল প্রদেশের পিপলস পার্টির একটি প্রতিনিধিদলও দাবি করে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় টহল দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু চীনের ৫০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের অভিযোগ নাকচ করলেও সীমান্তের উঁচু এলাকাগুলোতে চীনের তৎপরতা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছিলেন।
সরকারি পর্যায়ে অভিযোগ অস্বীকার করার সমালোচনা করে সিরাম প্রশ্ন তোলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতা না ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার এমন অভিযোগ করছেন কেন। তাঁর মতে, এসব অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
সিরাম আরও দাবি করেন, আসাফিলাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকা অদৃশ্য হয়ে গেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়Ñএমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।





