কমলগঞ্জে হামলায় যুবক নিহত
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৯:৪০ অপরাহ্ন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার বিকেলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার বড়গাছ গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে। তিনি ১৪ মাস বয়সী শুভ নামের এক সন্তানের জনক। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়নুল হক (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামপাশা গ্রামের লন্ডনপ্রবাসী দুলা মাস্টারের ছেলে রিপন আহমেদের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে মধ্যস্থতাকারী জাহাঙ্গীরদের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি কেনার বিষয়ে আলোচনার জন্য দুজনকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি কথা বলার জন্য জাহাঙ্গীরের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে ডেকে আনেন। জসিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন জমি বিক্রিতে বাধা দেন। এ নিয়ে বাক্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁরা জসিমের মাথায় আঘাত করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাঁকেও মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় একটি মাদ্রাসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কিছুদিন আগে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহতের পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কমর উদ্দিন জানান, নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ময়নুল হক নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





