নবীগঞ্জের ফুলন বিলে অবৈধ পুকুর বাণিজ্য
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর, দরবেশপুর, রঘু দাউদপুর ও বোয়ালজুর গ্রামের পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৫০ একর আয়তনের সরকারি খাসজমির ফুলন বিল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিলের জমি দখল করে ছোট-বড় শতাধিক পুকুর ও জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। এসব পুকুরে মাছ চাষ ও আহরণের পাশাপাশি প্রকাশ্যে বিক্রি-বাণিজ্যও চলছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাউদপুর মৌজার সাবেক জে.এল. নম্বর ১০৪ এবং বর্তমান জে.এল. নম্বর ১০৭-এর অন্তর্ভুক্ত ফুলন বিলের আয়তন প্রায় ৫০ একর। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিলের ভেতরে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করে ছোট-বড় শতাধিক পুকুর ও জলাশয় তৈরি করেছেন। লাঠির জোর ও লোকবল যার বেশি, বিলের ভেতরে তাঁর দখলে পুকুরও বেশিÑএমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে বিলে গিয়ে দেখা যায়, কার্তিক মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুকুর বিক্রির তোড়জোড় বেড়েছে। কেউ সেচযন্ত্র দিয়ে পানি নিষ্কাশন করে মাছ ধরছেন, আবার কেউ অর্থের বিনিময়ে পুকুর বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের দাবি, একেকটি পুকুর বা জলাশয় ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বিলের কয়েকটি পুকুরের মালিক হিসেবে পরিচিত দাউদপুর গ্রামের কামরুজ্জামান জানান, বিলে তাঁর তিনটি পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাছ পান তিনি।
অন্যদিকে দরবেশপুর গ্রামের মো. ধনাই মিয়া জানান, এ বিলে তাঁর দুটি পুকুর ছিল। ইতোমধ্যে তিনি সেগুলো স্বল্প দামে বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুলন বিল সরকারের ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাসজমি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর বিলটি ইজারা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রভাবশালীদের দখলের কারণে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকৃত মৎস্যজীবীরাও সরকারি জলমহাল ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইনাতগঞ্জ তহসিল অফিসের তহসিলদার মো. তারেক হাবিব বলেন, ফুলন বিল কোনোভাবেই ভূমিখেকোদের দখলে থাকতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে মৌজার অবস্থান ও জমির প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হবেন তিনি।
নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, এত বড় একটি বিল দখল করে রাখা হয়েছে, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। অচিরেই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে আগে কেউ তাঁকে অবহিত করেননি। আগামী মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, ফুলন বিলের তীরবর্তী এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে বিলটির জমি ও জলাশয় দখলমুক্ত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী বিলটি ইজারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।





