ক্যারিবীয় পেস আক্রমণে দিশেহারা বাংলাদেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫৯:২০ অপরাহ্ন

স্পোর্টস রিপোর্টার: সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৫১ রানেই ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে দিনের শেষ ভাগে তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।
দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। তাওহিদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। হাতে রয়েছে ৭ উইকেট।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে। দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের পেসাররা দারুণ বোলিং করেন। এক ওভারে জোড়া আঘাতসহ দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩৩ রান করেন আমির জাঙ্গু। ২১২ বলের ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। এ ছাড়া কেভিন উইকম্যান ৬১, জাস্টিন গ্রিভস ৫১ ও জসুয়া বিশপ ২৩ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান ২টি করে উইকেট।
দিনের শুরুতে ৮৭ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের ১০৬ রানের জুটি ভাঙার পর এক ওভারে জাঙ্গু ও অধিনায়ক রস্টন চেজকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন হাসান মাহমুদ। পরে জসুয়া বিশপকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। অন্যদিকে গ্রিভসকে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান মিরাজ।
৩৫৭ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। নতুন বলে শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২২ রানেই দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সাদমান ইসলামের চোটে ওপেনিংয়ে নামা নাঈম হাসান ৫ রান করে ফেরেন। এরপর কেভিন উইকম্যানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয়ে ১৬ রানেই বিদায় নেন তানজিদ হাসান তামিম।
চা-বিরতির আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ২৯ রানের জুটি গড়ার পর শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শান্ত। ১৮ রান করেন তিনি। এতে ৫১ রানেই তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দিনের বাকি সময়টা সতর্কতার সঙ্গে কাটিয়ে দেন দুজন। আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম দিনও শুরুটা ভালো করেছিল বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। দুই পেসারের তোপে মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। ব্রেন্ডন কিংকে ৯ রানে বোল্ড করেন তাসকিন। পরের ওভারে কাভেম হজকে শূন্য রানে বোল্ড করেন হাসান। পরে জসুয়া ডা সিলভাকে ১২ রানে ফিরিয়ে তৃতীয় আঘাত হানেন তাসকিন।
তবে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকম্যানের ১৩১ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। উইকম্যান ৬১ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন। এরপর জাঙ্গু ও গ্রিভসের শতাধিক রানের জুটি সফরকারীদের আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
প্রথম দিন আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করতে হয়। ৯০ ওভারের পরিবর্তে খেলা হয় ৭০ ওভার। দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেঞ্চুরি করে ১১১ রানে অপরাজিত ছিলেন আমির জাঙ্গু। গ্রিভসের সংগ্রহ ছিল ৩৫ রান।
এখন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে তৃতীয় দিন শুরু থেকেই বড় জুটি গড়তে হবে বাংলাদেশকে।





