বিশ্বকাপ নিয়ে সমর্থকদের বাড়াবাড়ি
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:১৬:৪৭ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জের বাহুবলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বন্দ্বে আবদুস শহিদ নামের একজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার উপজেলার আদিত্যপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে আদিত্যপুর গ্রামে ব্রাজিল সমর্থক টেনু মিয়ার ছেলে মুবাশ্বির ও আর্জেন্টিনা সমর্থক আবদুস শহিদের ছেলে রুকন মিয়ার মধ্যে খেলা নিয়ে ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে আবদুস শহিদ হাওর থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের আতর আলী ও ফজর আলীসহ একদল লোক তাকে বেদম মারপিট করে। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাহুবল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপরোক্ত ঘটনাটি যেমন মর্মান্তিক তেমনি নৈরাজ্যকর। খেলা নিয়ে উন্মাদনার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে খোদ আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের মতো ফুটবল পাগল দেশেও যখন হানাহানির কোন ঘটনা ঘটে না, তখন বাংলাদেশে এ দু’টি দেশের ফুটবল সমর্থকদের মাঝে এক ধরণের উন্মাদনা ও উশৃংখল আচরণ লক্ষ্য করা যায় প্রতিটি বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকালে। বিশে^র কোন দেশেই খেলা নিয়ে এ ধরণের বিবেকহীন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেখা যায় না। বিশ্বে ব্রিটিশ ফুটবল ফ্যান বা ভক্তদের উশৃংখল আচরণ সম্পর্কে ক্রীড়ামোদীরা অবগত। নিজেদের দল খারাপ খেললে তারা প্রায়ই উশৃংখল হয়ে ওঠে ভাংচুর করে স্টেডিয়ামে ও স্টেডিয়ামের বাইরে। কিন্তু এসব ঘটনা হতাহতের ঘটনায় গড়ায় না। কিন্তু বাংলাদেশে নিজ দেশের খেলোয়াড়েরা খারাপ খেললেও কিংবা খেলায় হারলেও এ দেশের ফুটবল বা ক্রিকেট ভক্তদের তেমন কোন উশৃংখল আচরণ করতে দেখা যায় না। অথচ ভিনদেশী দু’টি ফুটবল দলের পক্ষাবলম্বন করে এ দেশের তরুণ ও যুবারা এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক লোকেরাও যে লাগামহীন উশৃংখল আচরণ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। ইদানিং বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে উশৃংখল আচরণের বিরুদ্ধে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক লেখালেখি হচ্ছে। এতে কিছু ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বড়ো বড়ো পতাকা টানানোর প্রতিযোগিতায় অনেকটা ভাঁটা পড়তে দেখা যাচ্ছে। আগে সিলেটসহ বিভিন্ন নগরী ও শহরে প্রায় প্রতিটি ঘরে ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার পতাকা শোভা পেতো বিশ^কাপ চলাকালে। এখন সেই দৃশ্য খুব কমই চোখে পড়ে। অনেকে পতাকার পেছনে অর্থ ব্যয় যে নিছক অপচয় এটা বুঝতে পারছেন। এছাড়া ভিনদেশ ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য কোন দেশের ফুটবল টিমকে সমর্থনের নামে উন্মত্ত আচরণকেও নিন্দনীয় ও অন্তঃসারশূন্য আবেগ হিসেবে বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন। মন মানসিকতায় এ ধরণের ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন সত্বেও ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার ফুটবল টিমকে সমর্থনের নামে উন্মাদনা এখনো গোটা দেশে বিদ্যমান।
আশা করা যায়, আগামী বিশ্বকাপে এ ধরণের উন্মাদনা আরো কমে আসবে। তরুণ ও যুব সমাজসহ ক্রীড়ামোদীরা সবাই বুঝতে পারবে যে, ব্রাজিল আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য কোন দেশের খেলা নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি এবং দেশজুড়ে পতাকা উত্তোলন নিজ দেশের মর্যাদা ও পতাকার প্রতি অবমাননার শামিল। আমরা মনে করি খেলাকে শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। দীর্ঘ ৪ বছর পর পর আসা এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টটি হোক নির্মল আনন্দ ও বিনোদনের বিষয়, এমনটিই সবার কাম্য।




