ফাস্টফুডে স্বাস্থ্যহানি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ মার্চ ২০২৩, ১২:৩৫:৩৯ অপরাহ্ন

সচেতন মানুষ মাত্রেই জানেন, ফাস্ট ফুডে উচ্চ মাত্রায় চর্বি, ক্যালোরী এবং সোডিয়াম (লবন) থাকে, যা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ফাস্ট ফুডে পুষ্টিগুণ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থও কম থাকে যা দেহের জন্য আবশ্যক। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই ফাস্ট ফুডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অপর দিকে দেশীয় স্বাস্থ্যকর বিভিন্ন খাবারের আইটেম ক্রমশঃ জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। লক্ষণীয়, বার্গার, চিপস্, হটডগ, স্যা-ুচ, কাটলেট, রুলস, পিজা ইত্যাদি হচ্ছে ফাস্ট ফুডের উদাহরণ। এসব খাবার সামগ্রী এখন শহর নগর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। শহর ও নগরীতো বটে উপজেলা শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলের অনেক বাজারেও এখন এসব সামগ্রী বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য নগরী ও শহরের মতো সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্কুলের ছেলেমেয়েরা বিশেষভাবে অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা টিফিনের সময় যে খাবার খায় এর অধিকাংশই মুখরোচক ফাস্ট ফুড।
স্কুলের ক্যান্টিনগুলোতেও ছাত্র ছাত্রীদের পছন্দের ফাস্ট ফুড আইটেম বিক্রির জন্য রাখা হয়। এগুলোর পুষ্টিমান ও খাদ্যগুণের ব্যাপারে ক্যান্টিনওয়ালারা যেমন অসচেতন তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষও উদাসিন। এ অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা দিনের পর দিন গ্রহণ করে চলেছে ফাস্ট ফুড। ফাস্ট ফুড পরিণত হয়েছে তাদের নেশার খাবারে। বলা বাহুল্য, বিশ্বে স্বাস্থ্য ও খাদ্য সচেতন মানুষের কাছে ফাস্ট ফুড রীতিমতো একটি আতংকের নাম। সম্প্রতিক কালে বিশ্বে ওবিসিটি বা স্থূলকায়ত্ব একটি বড়ো সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ তো বটেই, অনেক উন্নয়নশীল দেশেও স্থূলকায় বা মোটা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ। চিকিৎসকরা বহু আগে থেকেই দৈহিক স্থূলতার সাথে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সম্পর্কের কথা বলে আসছেন।
বাংলাদেশে যে হারে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের মতো মারাত্মক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর পেছনে এই স্থূলকায়ত্ব বা মোটা হওয়ার বিষয়টিও সম্পৃক্ত বলে সচেতন মহলের অভিমত। যুক্তরাজ্যের গবেষকদের মতে, দেশটিতে ইদানিং স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এবং এর ফলে বেড়েছে খাদ্যনালীতে ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার। বাংলাদেশে স্থূলতা সমস্যা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট মারাত্মক রোগব্যাধি প্রতিরোধের লক্ষ্যে ফাস্ট ফুডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখনি জরুরী। এব্যাপারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। শাক সবজি ফলমূলসহ দেশীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল স্তরের মানুষের মনোযোগী হওয়া দরকার। এব্যাপারে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব সর্বাধিক।
আমরা আশা করি জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাই এ ব্যাপারে মনোযোগী ও সচেতন হবেন, গ্রহণ করবেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।




