স্বস্তির বাজেট
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জুন ২০২৫, ৯:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন

সম্পাদকীয়
গতকাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দীন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট পেশকালে তিনি বলেন, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের এক ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। আমাদের ওপর বর্তায় বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার এবং নৈরাজ্য দূর করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কাজটি কঠিন। তিনি আরো বলেন, আমি স্বস্তি এবং আনন্দের সাথে জানাতে চাই, মাত্র ১০ মাসেরও কম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সে লক্ষ্য পূরণে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে আশায় আমরা বুক বেঁধেছিলাম তা খুব শীঘ্রই পূরণ করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। এই বাজেট প্রস্তাব পাশ হবে আগামী ৩০ জুন।
গতকাল মিডিয়ায় ‘২০২৫-২৬ বাজেটঃ দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের’ শীর্ষক এক সংবাদে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে এলএনজি আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে। এছাড়া জ্বালানী তেল ও চামড়া শিল্পে শুল্ক ছাড় দেয়া হচ্ছে। সর্বোপরি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর ঋণপত্রে কমছে উৎসে কর। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনো মরিচ, ডাল, ভূট্টা, মোটা আটা, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল, খেজুর এবং ভূমি নিবন্ধন ফী, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সবধরনের ফল। এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।
খবরটি নিঃসন্দেহে একটি বড়ো শুভ সংবাদ এদেশের সিংহভাগ দরিদ্র ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য।
অপরদিকে বাজেটে দাম বাড়তে পারে এমন পণ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রড, স্টিল, ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার, মোটর সাইকেল ও সাইকেলের যন্ত্রাংশ, দেশীয় মোবাইল ফোন, ব্যাটারী চালিত রিকশার ব্যাটারী, কসমেটিক্স, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য, ব্লেড, টেবিল ওয়্যার, হেলিকপ্টার, বিদেশী চকোলেট, বিদেশী খেলনা, সিগারেট, মার্বেল গ্রানাইট ইত্যাদি। দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ও সীমিত আয়ের কোটি কোটি মানুষের নিত্য ব্যবহার্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম কমতে যাচ্ছে, যা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। অতীতে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য হাজারো লেখালেখি ও আহাজারি সত্বেও এগুলোর ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এসব নিত্যপণ্যের দাম বরং তিনবার বেড়েছে। প্রথমে বাজেটের আগে, দ্বিতীয়বার বাজেট ঘোষণায় এবং বাজেট শেষে। সরকার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিতে সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে বিগত সময়ে বিশেষভাবে স্বৈরশাসক হাসিনার ১৫ বছরের দুঃশাসনামলে। একটি তুলনামূলক জনবান্ধব বাজেট প্রস্তাব করার জন্য বিশ্বে গণমানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. ইউনুস ও তার সরকারকে সাধুবাদ।




