ইরানী কর্ণেলের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জুলাই ২০২৫, ১২:০১:৩৬ অপরাহ্ন
সম্প্রতি মিডিয়ায় এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতকার দিয়েছেন ইরানের আইআরজিসি’র সাবেক কর্ণেল শাহবাজী। তার এই সাক্ষাতকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওঠে এসেছে, যা প্রণিধানযোগ্য। সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, পরমাণু বোমা বানানোর পর সব উপকরণ রয়েছে ইরানের শুধু সংযোগ দরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, পারমাণবিক বোমাকে হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনি, ইরানে যিনি রাহবার বা পথ প্রদর্শক নেতা হিসেবে পরিচিত। এই ফতোয়াকে প্রত্যাহার করা হলে, বোমা বানানোর জন্য খুব বেশী সময়ের প্রয়োজন পড়বে না।
কর্নেল শাহবাজী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, তার সাক্ষাতকারে। তাকে প্রশ্ন করা হয়, ইসরাইলী হামলার পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরান কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলো? জবাবে তিনি বলেন, ইরান এক বিশাল দেশ। ইরান তার সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখেনি। পুরো দেশে সব কিছু ছড়িয়ে রয়েছে। ইরানের তুলনায় ইসরাইল আকারে মাত্র ০.৬ শতাংশ।
কর্নেল শাহবাজীর দেয়া উপরোক্ত তথ্যাবলী অত্যন্ত গভীর চিন্তাশ্রয়ী ও সচেতনতা সৃষ্টিকারী। তিনি পারমাণবিক বোমা সংক্রান্ত যে কথাগুলো বলেছেন, তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইরান পরমাণু বোমা বানাতে সক্ষম। আর এ ধরনের কয়েকটি বোমা যে ইসরাইলের মতো ক্ষুদ্র আয়তনের একটি দেশকে বিশ^ মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে পারে, আকার ইঙ্গিতে তিনি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাত্ত্বিক দিক দিয়ে এটা সত্য যে, একজন মানুষ বা একটি দেশকে পরাভূত পদানত করতে হলে তাকে শুধু হামলা করে বা ক্ষতি করে তা করা সম্ভব নয়। এভাবে শক্তি প্রয়োগ করে তাকে তার কর্মকান্ড থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাও সম্ভব নয়। অথচ ইসরাইল নামক আগ্রাসী ও অবৈধ রাষ্ট্রটি এমন চেষ্টাই করছে অব্যাহতভাবে। নিজেকে অধিকতর শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর না বানিয়ে সে ইরানের সক্ষমতা ও শক্তি নষ্ট বা ধ্বংস করতে চাইছে। ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে দেশটির পরমাণু কেন্দ্রসমূহে হামলা চালাচ্ছে, একের পর এক বিজ্ঞানীদের হত্যা করছে। কিন্তু তা সত্বেও ইরানের পরমানু বোমা তৈরীর সক্ষমতা ধ্বংস করা কিংবা পরমাণু বোমা তৈরী থেকে দেশটিকে বিরত রাখতে এখনো সফল হয়নি। না হওয়ারই কথা। এভাবে অন্য একটি দেশকে পরাভূত পরাস্ত করা অত্যন্ত দুরুহ কাজ। বরং ইসরাইল যদি সামরিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ইরানের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সক্ষম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে, তবে সে তার বৈরিতায় বহুলাংশে সফল হতে পারে। কিন্তু সেদিকে ইসরাইল যাচ্ছে না। আর যাওয়ার কোন ক্ষমতাও তার নেই। প্রাকৃতিক অথবা ভৌগলিক দিক দিয়ে ইসরাইল যেমন দুর্বল তেমনি অরক্ষিত। ইসরাইলকে ঘিরে আছে বহু আরব মুসলিম দেশ। ঐসব দেশের শাসক বা সরকারকে নানা কৌশলে বাগে আনতে পারলেও সেসব দেশের প্রায় সকল মানুষ ইসরাইল বিরোধী। এদিক দিয়ে খুব কাছের বা ঘনিষ্ঠ কোন মিত্র দেশ নেই তার। এছাড়া সবচেয়ে দুর্বল দিক হচ্ছে ইসরাইলের আয়তন বা ভৌগলিক ক্ষুদ্রত্ব। বাংলাদেশের কোন একটি বিভাগের সমান আয়তনের এই দেশটির সকল বিল্ডিং স্থাপনা কল কারখানা, গবেষণাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পরমাণু কেন্দ্র গাদাগাদি অবস্থায় বিদ্যমান। অপরদিকে প্রতিপক্ষের বৈরী বা শত্রুদেশ ইরানের প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে ইসরাইলের ঘোর শত্রু ও ইরানের মিত্র দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ আরো অনেকগুলো দেশ। সবচেয়ে বড়ো আঞ্চলিক পরাশক্তি ও মিত্রদেশ চীনও ইরান থেকে খুব বেশী দূরে নয়। এছাড়া দুর্গম পাহাড় ও মরুভূমি বেষ্ঠিত এই দেশটিতে স্থলপথে কোন শত্রুর প্রবেশ যেমন অত্যন্ত কঠিন তেমনি সেখান থেকে বিজয়ী প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসাও প্রায় অসম্ভব। ইরান তার পারমাণবিক কেন্দ্র ও প্রযুক্তি বিশাল দেশটির কোথায় লুকিয়ে রেখেছে তা খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব কোন শত্রু দেশের পক্ষে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল উন্নত ও আধুনিক পশ্চিমা দেশের সহায়তা সত্বেও ইসরাইল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ধ্বংস এমনকি দুর্বলও করতে পারেনি, এমনটি ধারণা সামরিক বিশেষজ্ঞদের। ইসরাইলের ক্ষুদ্রত্ব অর্থাৎ ভৌগলিক আয়তন যে কতো বড়ো দুর্ভাগ্যের তা প্রমাণিত হয়েছে এবারের শক্তিশালী ইরানী মিসাইল হামলায়। দেশটির বড়ো অংশ গুঁড়িয়ে গিয়ে ক্ষতি হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের। ৩০ থেকে ৪০ হাজার বাড়িঘর ও স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাত্র ১২ দিনের যুদ্ধে। এসব থেকেই কর্ণেল শাহবাজীর মন্তব্য বা বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়।




