মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুলাই ২০২৫, ১২:৩০:২৩ অপরাহ্ন

সম্প্রতি একটি স্থানীয় দৈনিকে ‘সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক এখন মহাযন্ত্রণার সড়ক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ঢাকা মহাসড়ক যাত্রী আর চালকদের জন্য এখন মহাযন্ত্রণার সড়কে রূপ নিয়েছে। গত দেড় দুই বছর ধরে ভাঙাচোরা এই সড়কে প্রতিনিয়তই লেগে থাকে যানজট। সবচেয়ে বেশী যানজট হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ^রোড থেকে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর পর্যন্ত অংশে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগে গন্তব্যে পৌঁছতে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সকলকে। গত শুক্রবার এই মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগেছিলো।
জানা গেছে, এই সড়কে দু’টি বৃহৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। দু’টি প্রকল্পের গতিই অত্যন্ত মন্থর। উন্নয়ন কাজের কারণে সড়কে বেড়েছে যানজট। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে সড়কের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ^রোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। এই দুই প্রকল্পের কাজই চলছে একেবারে ধীরগতিতে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেনের কাজ মাঝখানে কিছুদিন বন্ধ ছিলো। এদিকে বৃহৎ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় অতি জরুরী রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজও বন্ধ রয়েছে। ফলে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়েই যান চলাচল করছে। ফলে এই অংশে লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট।
লক্ষণীয় যে, ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর ৩ মাস বন্ধ ছিলো আশুগঞ্জ-আখাউড়া ৫১ কিলোমিটার সড়কে চারলেন প্রকল্পের কাজ। যদিও নভেম্বর থেকে আবার এই সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায়ই অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। এই মহাসড়কে যাতায়াতকারীদের দুর্ভোগ চরমে বলে জানা গেছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর এই প্রকল্পে নিয়োজিত ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩শ কর্মকর্তা-কর্মচারী ভারতে ফিরে যাওয়ায় বন্ধ ছিলো নির্মাণ কাজ। ফলে আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছিলো। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো খানাখন্দকের কারণে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ^রোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ^রোড মোড় পর্যন্ত ১২ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ জুড়ে আছে খানাখন্দ ও ছোট বড়ো গর্ত। যে কারণে এখানে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগ নেমে আসে ঘণ্টায় মাত্র ১০ কিলোমিটারে। এই ১২ কিলোমিটার এলাকায় সবসময় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন প্রকল্পের অধীনে থাকায় সড়কটিতে নিয়মিত সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্ততঃ ৪ কিলোমিটার অংশে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলেন, এখন পুরোদমে কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে এর প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরো বাড়ানো হতে পারে।
ইতোপূর্বে হাসিনার শাসনামলে ‘সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়কঃ ঢাকা-সিলেট ফোরলেন প্রকল্প’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, এই স্মার্ট হাইওয়ে নির্মাণ পরিকল্পনা প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হবে ৮০ কোটি টাকা। মোট ব্যয় হবে ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং এটা যুক্ত হবে ৬টি দেশের উপ-আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে। এেেত আরো বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতসহ ৬টি দেশ নিয়ে গঠিত দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সরাসরি সড়ক অবকাঠামো তৈরীর উদ্দেশ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করছে সরকার। প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়, উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান ও চীনসহ ৬টি দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থপনের জন্য ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সড়কটি উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগের প্রধান করিডোর হওয়ায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।
যা-ই হোক, যে উচ্চাভিলাষি প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে এই মেগা সড়ক প্রকল্প শুরু হয়েছিলো তা যথাশীঘ্র সম্পাদন প্রয়োজন। বড়ো সড়ক নেটওয়ার্কের আশায় যদি দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির বা অচল হয়ে পড়ে, তবে এমন মেগা প্রকল্প উন্নয়নের নামে গলার কাঁটায় পরিণত হতে বাধ্য। তাই যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি এই সিলেট-ঢাকা সড়ক প্রকল্পটির কাজ শেষ করা দরকার। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে সড়কের সংস্কার কাজ করতে হবে। কারণ খারাপ রাস্তার কারণে যে যানজট হচ্ছে এতে জনদুর্ভোগ ছাড়াও দেশের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার।




