ব্যাংক খাতের রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে অভিযান
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৩১:৫৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক খাতকে প্রায় ধ্বংসের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনার পর এবার সরকার এই খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্তকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিগত দেড় দশকে ব্যাংক খাতে যে ব্যাপক ও বিপর্যয়কর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এজন্য বিশেষভাবে দায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরগনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, এমন অভিমত ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের। এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় মিডিয়া। ‘ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্তাদের পেছনে দুদক’ শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য দায়ীদের দুর্নীতি অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ ও খেলাপী ঋণগ্রহীতা। এরই অংশ হিসেবে আর্থিক খাতের বড়ো অনিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্ণর, চার ডেপুটি গভর্ণরসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা খুঁজছে সংস্থাটি। সম্প্রতি ব্যাংকের গভর্ণরের কাছে এ সংক্রান্ত অন্তত ২৩ ধরনের তথ্য চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মোমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে গত ১৫ বছরে ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে দুদক যাদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে, তারা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আবদুর রউফ তালুকদার, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরসহ আরো তিনজন এবং বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ^াস ও কাজী সায়েদুর রহমান। এই ৯ জন গত ১৫ বছরের বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য, জারি করা সব ঋণ নীতিমালা, ঋণ প্রদানের তথ্য, অর্থ পাচার সংক্রান্ত তথ্য, রিজার্ভ থেকে ব্যবসায়ীদের ডলার প্রদান সংক্রান্ত নোটিশসহ নথি এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন অভ্যন্তরীন তদন্ত হয়ে থাকলে সেসব প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি চেয়েছে দুদক।
বলা বাহুল্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণখেলাপীদের ছাড় দিয়ে নীতিমালা জারী, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক জালিয়াতি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির সুযোগ দিয়ে বিগত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, ‘আর্থিক অনিয়ম নিয়ে কমিশনে অনেকগুলো টিম কাজ করছে। ১১টি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যেখানে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আরো কয়েকটি সংস্থা কাজ করছে। এছাড়া আরো অনেকগুলো টিম কাজ করছে, বিশেষভাবে অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত। এসব অনুসন্ধান শেষ হলে আমরা সব গণমাধ্যমে তুলে ধরবো’।
স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার গত ১৫ বছরের শাসনামলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এদেশের ব্যাংকিং ও অন্যান্য আর্থিক খাত। আর এজন্য দায়ী মূল হোতাদের নাম ও তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে জোরালো কোন তদন্ত এবং তাদের বিচার ও শাস্তির কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দেশের সচেতন মহল এতোদিন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও হতাশ ছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকার বসে নেই। এ ব্যাপারে জাল গুটিয়ে আনছে ক্রমশঃ। এবার ধরা পড়বে রাঘব বোয়ালরা। দুদকের তদন্তসহ বিচার প্রক্রিয়া যদি সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় তবে ব্যাংক ও আর্থিক খাত ধ্বংসের হোতাদের সব অপরাধ অপকর্ম যেমন প্রকাশিত হবে, তেমনি কঠিন শাস্তির মুখে পড়বে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা। দেশের জনগণ গভীর আগ্রহ নিয়ে এরই প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন।




