শিগগিরই প্রাথমিকে ৭৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১০:১১:৪৫ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট কাটাতে শিগগিরই ৭৩ হাজারেরও বেশি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। ইতোমধ্যে শূন্যপদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।
নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে এখন অপেক্ষা শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোটা ব্যবস্থা এবং নিয়োগবিধি সংশোধন প্রক্রিয়াধীন। উচ্চ আদালতের রায়ে চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ বিশেষ কোটার নির্দেশনা থাকলেও, পুরনো বিধিতে এখনো আগের কোটা পদ্ধতি রয়ে গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মাসুদ আকতার খান বলেন, “শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ১১০টি। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্য রয়েছে ৩৪ হাজার ১০৬টি এবং সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য ২৪ হাজার ৫৩৬টি।
পদোন্নতির ঘাটতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকের পদে চলতি দায়িত্বে কাজ করছেন ১৩ হাজার ৬৭৫ জন।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার প্রায় ২০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫৭২টি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ ইতোমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে, যা পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
সংগীত, শারীরিক শিক্ষা ও চারুকলা বিষয়ে শিক্ষকের জন্যও নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষায় ৫ হাজার ১৬৬টি এবং চারুকলায় ৫ হাজারের বেশি পদের কাজ চলমান। অঞ্চলভিত্তিক পদায়নের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “সব ধরনের পদ একত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হতে পারে, যাতে সময় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাশ্রয় হয়।”
দেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৩০টি। তন্মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি, যার মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে পড়ছে ১ কোটিরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়োগ বাস্তবায়ন হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত উন্নত হবে।






