সেপ্টেম্বরে সিলেটে ডেঙ্গুর দাপট
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৮:১২ অপরাহ্ন
এক মাসে আক্রান্ত ২২৮, মৃত্যু ২

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে সেপ্টেম্বরজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মাসের ৩০ দিনে নতুন করে ২২৮ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এসময়ে মারা গেছেন দুজন। আগস্ট শেষে বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯০ থাকলেও সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯০। ৭ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয় ২২৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২৬১, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর ২৯২, ১৮ সেপ্টেম্বর ৩০৫, ২০ সেপ্টেম্বর ৩২৫ এবং ২১ সেপ্টেম্বর ৩৩৪ জনে দাঁড়ায়। ২৫ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩৬৬। ২৯ সেপ্টেম্বর তা দাঁড়ায় ৪০৪ জনে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জন শনাক্ত হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২২৮ জন।
সংক্রমণের পাশাপাশি সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। মৃতদের মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার একজন করে রয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
চলতি বছরের জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৩। সিলেট ও সুনামগঞ্জে ৯০ জন করে এবং মৌলভীবাজারে ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বিভাগের বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে সিলেটে চিকিৎসা নেওয়া আরও ১৩ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে চার জেলার মধ্যে হবিগঞ্জেই আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম বুধবার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছেন। নতুন রোগীদের মধ্যে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৬ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ৩, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৬, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২ এবং লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রয়েছেন। এছাড়া বানিয়াচং, মাধবপুর, নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট ও মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে একজন করে রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।





