এক দফা দাবিতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১০:৩৪ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করার এক দফা দাবিতে বুধবার বিকেলে নগরের কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
বিকেল ৩টা থেকে কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবির বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো দাবির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত আশ্বাস পাওয়া যায়নি। লিখিত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এর আগে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩৩ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হলেও ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন। তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকে তালা দিয়ে রাখায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এ সময় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে না দেওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন তারা।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় তাদের ডিগ্রির মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে কলেজটিকে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করা অথবা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও লিখিত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।






