মৃতপ্রায় সিলেট-ছাতক রেলপথে ফিরছে প্রাণ
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ন

সম্প্রতি মিডিয়ায় রেলওয়ে নিয়ে একটি আনন্দদায়ক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘হুইসেল বাজিয়ে সিলেট-ছাতক রেলপথে আবারো ছুটবে ট্রেন’ শীর্ষক এই সংবাদে বলা হয়েছে, দীর্ঘ বিরতির পর সিলেট-ছাতক রেলপথে আবারো ছুটবে ট্রেন। বহুদূর থেকে শোনা যাবে হুইসেল। স্টেশনে স্টেশনে ব্যস্ততা বাড়বে। বাড়বে মানুষের পদচারণা। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ফিরবে প্রাণ।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে রেললাইন সংস্কারের কাজ। রীতিমতো চলছে কর্মযজ্ঞ। ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। দেখা গেছে, পুরোদমে চলছে সংস্কার কাজ। দ্রুতগতিতে অপসারণ করা হচ্ছে পুরনো রেললাইন ও স্লিপার। ইতোমধ্যে ছাতক থেকে খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার পুরনো রেললাইন অপসারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হয় ১৯৫৪ সালে। তখন সুনামগঞ্জের ছাতক ছিলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প বা শিল্পাঞ্চল। শিল্প ও পণ্য পরিবহনের প্রয়োজনেই এ রেললাইন স্থাপন করা হয়েছিলো। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির সময় এ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১২ কিলোমিটার রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর অবশেষে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী সরকার রেললাইন সংস্কারের অনুমোদন দেয়। রেলপথটির মেরামত ও পুনর্গঠনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ১৮ মাসের মধ্যে।
বলা বাহুল্য, বর্তমানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন উপদেষ্টা ডঃ ফাওজুল কবির খান। যেহেতু এই সৎ অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, আশা করা যায় সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে যথাসময়েই সম্পন্ন হবে সিলেট-ছাতক রেলপথ প্রকল্পের কাজ। ডঃ ফাওজুল কবির ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সংকট হ্রাস করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছেন। সংশ্লিষ্ট মহল আশা করেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সমস্যা ও দুরীকরণেও সফল হবেন তিনি। সম্প্রতি ডঃ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এক টাকা রোজগারের জন্য এখানে আড়াই টাকার মতো খরচ হয়। এর পেছনে দু’টি কারণ রেলের দুর্নীতি ও অপচয়। এ অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি বলেন, রেলের লোকসানের আরও একটি কারণ হলো, বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন (রেলওয়ে সেবার মূল্য অনেক কম)। অনেকেই ট্রেনে ওঠে ভাড়া দেন না। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে রেলওয়ের সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে। লোকসান বাড়লে রেলের সেবা কমানো ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকবে না।
গত ২ জুন একটি জাতীয় মিডিয়ায় ‘সেই তিন মন্ত্রীর পেটে রেল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ রেলওয়েতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিতে তর তর করে তুঙ্গে ওঠেছিলো। রেলের ইঞ্জিন ও ট্রেন কেনা এমনকি করোনাকালে সুরক্ষা সামগ্রী বেলায়ও দুর্নীতি হয়। মেগা প্রকল্পগুলোতে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ লোপাটের মচ্ছব চলে। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানায়, ওই ১৬ বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। এর মধ্যে শেষ হওয়া ৯৫ প্রকল্পেই ব্যয় হয় প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা। মোঃ জিল্লুল হাকিম, নূরুল ইসলাম সুজন ও মোঃ মুজিবুল হক স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের রেলমন্ত্রী থাকাকালে কমিশন নেওয়া থেকে শুরু করে দরপত্র, নিয়োগ, বদলি, ইজারা বাণিজ্যও ছিলো তুঙ্গে। এছাড়া রেলওয়ের রেল ও কোচ সংস্কার বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়, রেলপথ নির্মাণ ইত্যাদি খাতে শত শত কোটি আত্মসাত করা হয়। দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসক হাসিনার দুর্নীতি-পরায়ণ রেলমন্ত্রীরা রেলওয়ের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কখনো জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেনি। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো অর্থ আত্মসাত। আর আরেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ‘কালো বিড়াল’ আখ্যা পেয়েছিলেন দুর্নীতির কারণে। হাসিনা সরকার এখনো বহাল থাকলে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিতকামী এই সিলেট-ছাতক রেলওয়ে আদৌ কখনো চালু হতো কি-না, এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। আশা করা যায়, যথাসময়েই সংস্কার শেষে এই রেললাইন আবার চালু হবে, উপকৃত হবেন সিলেটের ছাতক উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীসহ সকল পর্যায়ের মানুষ।




