সিলেটে বাংলাদেশের দারুণ এক দিন
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ৯:২০:২১ অপরাহ্ন
ডাবল সেঞ্চুরির হাতছানি মাহমুদুলের

স্পোর্টস ডেস্ক : সিলেটের নয়নাভিরাম মাঠে একটি চোখ জোড়ানো দিন পার করলো বাংলাদেশ। শিশির ভেজা সকাল থেকে গোধূলী লগ্ন-পুরোটা দিনই নিজেদের করেই রাখলো জয়-মুমিনুল-সাদমানরা। এর মাঝে ডাবল সেঞ্চুরীর হাতছানি মাহমুদুল হাসান জয়ের।বুধবার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৮৫ ওভার ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশ। এক উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ৩৩৮ রান। লিড ৫২ রানের। দিনশেষে ২৮৩ বলে ১৬৯ রানে অপরাজিত আছেন জয় আর মুমিনুল ১২৪ বলে ৮০ রানে।
লাকাতুরা চা বাগানের সবুজ ভেদ করে সকালে সূর্যরশ্মি স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। আগের দিনের স্কোর ২৭০/৮-কে দ্বিতীয় দিন খুব বড় হতে দেননি বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল, ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিন সফরকারী দলের শেষ দুই জুটির স্থায়ীত্ব ১৪ বল। ১৩ মিনিটে যোগ করতে পেরেছে তারা ১৬ রান।
আয়ারল্যান্ডকে তিনশ’র নিচে আটকে রাখতে পেরে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা ব্যাটে ভালই শান দিয়েছে। আইরিশ বোলারদের সাদামাটা বোলিং স্বাচ্ছন্দে খেলেছে টপ অর্ডাররা। কখনো আতঙ্কে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ দলকে। বরং বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা আইরিশ বোলারদের পাড়া মহল্লা মানে নামিয়ে এনেছে। দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে বাংলাদেশের টপ অর্ডাররা পেয়েছে একটার পর একটা পছন্দের বল। খুব স্বাচ্ছন্দে ফ্রন্ট ফুটে খেলেছেন সাদমান-মাহমুদুল হাসান জয়-মুমিনুল। ৭৬.৯২ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করে সাদমান দিয়েছিলেন সেঞ্চুরির পূর্বাভাস। তবে হ্যাম্পপায়ার্সের আউট সাইড অফ ডেলিভারি কাট করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন তিনি ৮০ রানে। মিস করেছেন ৩য় টেস্ট সেঞ্চুরি।
ওপেনিং পার্টনারশিপের ১৬৮ রান বড় স্কোরের পথ করেছে প্রশস্ত। দিনের শেষ সেশনে ৩০ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে উইকেটহীন ১৪০ রান। মাহমুদুল হাসান জয় শুরুটা করেছিলেন সতর্ক দৃষ্টিতে। ৭২ বলে ৫০, সেঞ্চুরিতে লেগেছে তার ১৯০টি বল। ২০২২ সালের মার্চ মাসে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয় ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে (১৩৭)। এর পর যেনো নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন জয়। দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে ৩ বছর ৮ মাস, টেস্টের সংখ্যায় অপেক্ষা ১৫টি। জর্ডান নেইলের বুক সমান উঁচু শর্ট পিচ ডেলিভারি লাফিয়ে আপার কাটে দর্শণীয় বাউন্ডারিতে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন মাহমুদুল হাসান জয়।
সেঞ্চুরির পর ক্যাম্ফারকে এক ওভারে একটু বেশিই চড়াও হয়েছেন জয়। মেরেছেন ইনিংসেরর ৮০ তম ওভারে ম্যাকব্রিনকে ২ ছক্কা, ১ বাউন্ডারি। ভাগ্যটাও জয়ের ভাল। ক্যাম্ফারের ওই ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে স্টার্লিংয়ের হাত থেকে বেঁচে গেছেন জয়। ১৫৬ রানের মাথায় জীবন ফিরে পাওয়া জয় দ্বিতীয় দিন শেষে ক্যারিয়ার সেরা ১৬৯ রানে অপরাজিত। ২৮৩ বলের ইনিংসে ১৪টি চার এর পাশে মেরেছেন মাহমুদুল হাসান জয় ৪টি ছক্কা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর (১০৭*) ভুলেই গিয়েছিলেন তিন অঙ্কের কথা। ১৪ মাস এবং ৮ টেস্টের অপেক্ষার পর সেঞ্চুরির আবহ পাচ্ছেন মুমিনুল। আর ২০টি রান হলেই টেস্টে ১৪তম সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে মুমিনুলের। জয়ের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ইতোমধ্যে ১৭০ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপে অবদান রেখেছেন মুমিনুল। আর ৬৩টি রান জয়-মুুমিনুল যোগ করতে পারলে ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে সামছুর রহমান শুভ-ইমরুল কায়েসের ২৩২ রানের পার্টনারশিপকে ছাড়িয়ে যেতে পারবেন এই জুটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৮৬।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৮৫ ওভারে ৩৩৮/১ (জয় ১৬৯*, সাদমান ৮০, মুমিনুল ৮০*; ম্যাককার্থি ৮-১-৩৪-০, ইয়াং ৭-০-২৭-০, ম্যাকব্রাইন ২৪-৫-৯৩-০, নিল ৮-০-৩৮-০, হামফ্রিজ ২৩-০-৭৮-১, ক্যাম্ফার ৬-০-৩৫-০, টেক্টর ৯-১-৩১-০)।





