আলোচনায় সিটি নির্বাচন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন
যে বার্তা দিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী
সিসিকসহ ৬ প্রশাসকের যোগদানপত্র জমা
স্টাফ রিপোর্টার : সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় স্থবির হয়ে আছে কার্যক্রম। জন্মনিবন্ধন সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের। প্রতিদিনই কাউন্সিলর অফিসে গিয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
ছাত্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি ও পৌরসভায় মেয়রদের পাশাপাশি অপসারণ করা হয় কাউন্সিলরদেরও। এরপর থেকে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। প্রশাসক নিয়োগ দিলেও জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, মৃত্যু সনদ পেতে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
এবার নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সিটি নির্বাচন নিয়ে এখন আলোচনা বেশি।
আলোচনার মাঝেই নতুন সরকার নির্বাচনের কোন ঘোষণা না দিয়ে সিটি করপোরশেনগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ অবস্থায় সকলের মাঝেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে যে, সিটি নির্বাচন আসলে কবে?
সারাদেশের মতো সিলেট সিটিতেও জেলা বিএনপি সভাপতিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন । তবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সিলেট সিটিসহ দেশের ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শফিকুল ইসলাম খান, খুলনার নজরুল ইসলাম মনজু, নারায়ণগঞ্জের সাখাওয়াত হোসেন খান ও গাজীপুরের শওকত হোসেন সরকার মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশাসক হিসেবে যোগদানপত্র জমা দেন।
এসময় এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বার্তা দিয়ে বলেন, মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। দলীয় প্রতীকে ভবিষ্যতে সিটি নির্বাচন হবে কি-না, সেটা সংসদে নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, সিটিতে দিলেও পৌরসভায় রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা এখনও সরকারের নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, যেহেতু এইসব পদে আগে সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্বে ছিলেন, আমরা মনে করছি যে এখানে (সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে) রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে জনগণ সেবা ভালোভাবে পাবে এবং বেশি পাবে এটা আমাদের বিশ্বাস আর কি। সেই কারণে আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসকভাবে নিয়োগ দিয়েছি। এছাড়া এতে করে জনগণের সঙ্গে ‘পার্থক্যও কমে আসবে’ বলেও মনে করেন তিনি।
এসময় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন বলেই তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯ অগাস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়।




