সিলেটে বইমেলা বাতিলের প্রতিবাদ দেড়শতাধিক লেখক-সংস্কৃতিকর্মীর
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৩০:৪৫ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার প্রাঙ্গণে প্রকাশক পরিষদ আয়োজিত বইমেলা বাতিলের প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। আজ শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তারা এ প্রতিবাদ জানান। এতে ১৫৩ জন লেখক ও সংস্কতিকর্মী স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি-২৪ এপ্রিল শুক্রবার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার প্রাঙ্গণে প্রকাশক পরিষদ, সিলেট-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিতব্য বইমেলা উদ্বোধনের আগের দিন প্রশাসনের নির্দেশে ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা’ দেখিয়ে বাতিল করা হয়েছে। অথচ এ সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য কারণ উপস্থাপন করা হয়নি। এর পেছনে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার করেছেন, তা এখনও অস্পষ্ট।
ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রকাশকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পেশাভিত্তিক সংগঠন—যারা নিজেদের অর্থ, শ্রম ও দায়বদ্ধতায় একটি অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে—তাদের কার্যক্রমকে বারবার বাধাগ্রস্ত করা কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি একটি সংকীর্ণ ও অবিশ্বাসপ্রসূত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
যদি অভিযোগের ভিত্তি হয়—‘কে কোন সময়ে কার সঙ্গে ছবি তুলেছে’, ‘কে কাকে চিনত’ কিংবা ‘অতীতে কার সঙ্গে কার যোগাযোগ ছিল’ তবে প্রশ্ন জাগে: আমরা কি আইনের শাসনে পরিচালিত হচ্ছি, নাকি অনুমান, অপপ্রচার ও সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি?
একটি বইমেলা কেবল বাণিজ্যিক আয়োজন নয়; এটি পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের মিলনস্থল, একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রকাশভূমি। সেখানে রাজনৈতিক সন্দেহ বা বিরোধ প্রবেশ করিয়ে এমন আয়োজন ব্যাহত করা মানে সাহিত্য-সংস্কৃতির স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- যেখানে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ নেই এবং সহিংসতার কোনও ইতিহাস নেই, সেখানে ‘নিরাপত্তাহীনতা’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কোনও স্বাধীন সাংস্কৃতিক উদ্যোগই নিরাপদ থাকবে না।
প্রশ্নটি এখন স্পষ্ট: বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন কি প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীরা পরিচালনা করবেন, নাকি অনুমাননির্ভর অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্ধারণ করবে-কারা সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবে?
আমরা মনে করি, এ ধরনের বাধা সমাজের জন্য কোনও ইতিবাচক বার্তা বহন করে না। বরং এটি সৃজনশীলতাকে দমিয়ে দেয়, বিভাজনকে উসকে দেয় এবং আমাদের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলে।
অতএব, বইমেলার মতো সাংস্কৃতিক কর্মকা-কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং এ ধরনের হয়রানি ও বাধা বন্ধে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে, সকল লেখক, প্রকাশক ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি এই পরিস্থিতিতে সুস্পষ্ট ও সক্রিয় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
বিবৃতিদাতারা হলেন:
১. এ কে শেরাম, লেখক, সংগঠক, ২. ড. জফির সেতু, কবি, গবেষক, অধ্যাপক, ৩. ড. মোস্তাক আহমাদ দীন, কবি, গবেষক, ৪. টি এম কায়সার, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, ৫. ফকির ইলিয়াস, কবি, সাংবাদিক, ৬. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, ৭. ড. ইবরুল চৌধুরী, চিকিৎসাবিদ, ৮. হাফিজ রশিদ খান, কবি, প্রাবন্ধিক, ৯. আহমদ মিনহাজ, কথাসাহিত্যিক, ১০. ময়নূর রহমান বাবুল, লেখক, সংগঠক, ১১. হামিদ মোহাম্মদ, লেখক, সাংবাদিক, ১২. ফজলুররহমান বাবুল, কবি, সম্পাদক, ১৩. শামস শামীম, কবি, সাংবাদিক, ১৪. মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, সম্পাদক ‘গাগরা’, ১৫. মালেকুল হক, কবি, সম্পাদক, ১৬. বাবুল আহমদ, নাট্যকর্মী, লেখক, ১৭. আবদুল মুমিন মামুন, কবি, শিক্ষক, ১৮. কামাল রাহমান, কথাসাহিত্যিক, অনুবাদক, ১৯. সুমন বনিক, কবি, সম্পাদক, ২০. স্বপ্নীল ফিরোজ, কবি, ২১. আ ফ ম সাঈদ, লেখক, সাংবাদিক, ২২. ফেরদৌস কবির টিপু, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, ২৩. মীনাক্ষি সাহা, কবি, প্রাবন্ধিক, ২৪. পারভেজ রশীদ মঙ্গল, কবি, অধ্যাপক, ২৫. ফারহানা ইলিয়াস তুলি, কবি, ২৬. সাইদুর রহমান সাঈদ, কবি, প্রাবন্ধিক, ২৭. সৈয়দ মনির হেলাল, সম্পাদক, আইনজীবী, ২৮. জওয়াহের হোসেন, কবি, ২৯. ওয়াহিদ রোকন, কবি, চিন্তক, ৩০. আমিনা শেলী, কবি, সম্পাদক, ৩১. ফয়জুর রহমান ফয়েজ, কবি, সম্পাদক, ৩২. আখলাকুল আম্বিয়া বাতিন, কবি, ৩৩. সাইয়্যিদ মুজাদ্দিদ, কবি, সম্পাদক, ৩৪. মিসবাহ জামিল, কবি, ৩৫. আবিদ ফায়সাল, কবি, ভ্রমণআখ্যানকার, ৩৬. মেকদাদ মেঘ, কবি, শিল্পী, সম্পাদক, ৩৭. অনন্ত নিগার, বিজ্ঞান লেখক, ৩৮. খালেদ সানোয়ার, কবি, ৩৯. মোহাম্মদ জায়েদ আলী, কবি, সম্পাদক, ৪০. হেলাল চৌধুরী, কবি, সম্পাদক, ৪১. শেখ মো. কাওছার আলী, লেখক, ৪২. হাবিবুর রহমান এনার, কবি, সম্পাদক, ৪৩. আলফ্রেড আমিন, কবি, ৪৪. নেসার শহিদ, গল্পকার, ৪৫. শাহ শামীম আহমদ, কবি, সম্পাদক, ৪৬. কাসমির রেজা, কবি, সংগঠক, ৪৭. দেবাশীষ দীপন, লেখক, সম্পাদক, ৪৮. মুজাহিদ আহম্মদ, সম্পাদক ‘কোরাস’, ৪৯. মালেক ইমতিয়াজ, কবি, ৫০. গোলাম সাদত জুয়েল, লেখক, সাংবাদিক, ৫১. সালমান ফরিদ, লেখক, সম্পাদক, ৫২. ওয়ালী মাহমুদ, কবি, সংগঠক, ৫৩. লাল শাহ, গীতিকার, ৫৪. অদিতি শিমুল, কবি, ৫৫. শিমুল মাহমুদ, কবি, কথাসাহিত্যিক, ৫৬. আব্দুল বাছিত, অনুবাদক, ৫৭. দিলু নাসের, কবি, ছড়াকার, ৫৮. এম শহিদুজ্জামান চৌধুরী, কবি ও গবেষক, ৫৯. মহিউদ্দিন হায়দার, কবি, প্রাবন্ধিক, ৬০. কাজী জিননূর, কবি, ৬১. রোদ্দুর রিফাত, কবি, ৬২. এনামুল কবির, প্রাবন্ধিক, ৬৩. আহমদ জুনায়েদ, কবি, ৬৪. হোসনে আরা কামালী, কবি, প্রাবন্ধিক, ৬৫. সুজাত মনসুর, লেখক, গবেষক, ৬৬. সাঈম চৌধুরী, লেখক, সাংবাদিক, ৬৭. আহমদ সায়েম, কবি, সম্পাদক, ৬৮. সামসুল আমিন, কবি, সংস্কৃতিকর্মী, ৬৯. আজির হাসিব, লেখক, গবেষক, ৭০. মাহবুব লীলেন, কবি, কথাসাহিত্যিক, ৭১. শামিম শাহান, কবি, সম্পাদক, ৭২. মোক্তাদীর আহমদ মোক্তা, লেখক, সাংবাদিক, ৭৩. সাইফুল আলম, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষক, ৭৪. মাহিদুল ইসলাম, কবি, ৭৫. মিজানুর রহমান মীরু, কবি, সংগঠক, ৭৬. মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, লেখক, সাবেক অধ্যক্ষ, ৭৭. ফারুক আহমদ রনি, কবি, সংগঠক, ৭৮. মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদ, প্রাবন্ধিক, ৭৯. মিহিরকান্তি চৌধুরী, লেখক, অনুবাদক, ৮০. এস এম শরীয়ত উল্লাহ, কবি, ৮১. শাহ নুরজালাল, গীতিকার, ৮২. আব্দুর রহমান, গীতিকার, ৮৩. সুলেমান কবির, কবি, ৮৪. অসীম সরকার, কবি, ৮৫. দোলন দেবনাথ, কবি, ৮৬. সুলতানা পারভীন, গীতিকার , ৮৭. আলী মাহবুব, সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট, ৮৮. সজল ছত্রী, কবি, ৮৯. হাফিজুর রহমান, সংস্কৃতিকর্মী, ৯০. সজল কান্তি সরকার, লোকসংস্কৃতি গবেষক, ৯১. বেলাল আহম্মদ, কবি, ৯২. মুন্নি তাফাদার, সংস্কৃতিকর্মী, ৯৩. দিনা ফেরদৌস, গল্পকার, ৯৪. শেখ মাহফুজা রশীদ দিবা, কবি, ৯৫. নাওয়াজ মারজান, সম্পাদক, প্রচ্ছদশিল্পী, ৯৬. হোসাইন ফাহিম, কবি, সম্পাদক, ৯৭. ধ্রুব সাদিক, লেখক, সাংবাদিক, ৯৮. কাজল রশিদ, কবি, সম্পাদক, ৯৯. মোহাম্মদ হোসাইন, কবি, শিক্ষক, ১০০. মোহাম্মদ নূর তাহের, শিক্ষানুরাগী, ১০১. শেখর মোহান্ত, লেখক, মানবাধিকারকর্মী, ১০২. আবদুস সাদেক লিপন, ছড়াকার, আইনজীবী, ১০৩. জাফর ওবায়েদ, কবি, ১০৪. তাজুল মোহাম্মদ, লেখক, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, ১০৫. হরি পদ চন্দ, গীতিকার, ১০৬. খায়ের মোহাম্মাদ মিঞা, অধ্যাপক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, ১০৭. মাশুকুল ইসলাম খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ১০৮. স্বরণ খান, উদ্যোক্তা, সংস্কৃতিকর্মী, ১০৯. এইচ. এম. আরশ আলী, গীতিকার, ১১০. এম. এস. রহমান, গীতিকার, ১১১. হেনা নূরজাহান, কবি, ১১২. বদরুজ্জামান আলমগীর, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক, ১১৩. ডা. ফাতেমা আহমেদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১১৪. সাদেক মিয়া কাপ্তান, উপদেষ্টা, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, ১১৫. আওতাদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১১৬. মাহতাব জায়গীরদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১১৭. মফিজুল ইসলাম, সাংবাদিক, ১১৮. মোহাম্মদ পলাশ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১১৯. মো. লুৎফুর রহমান, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২০. মোহাম্মাদ খালেদ হোসেইন, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২১. রোখসানা পারভীন, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২২. কামরুল হাসান, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৩. শায়েখুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৪. মো. আশিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৫. মোস্তফা বাদল, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৬. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৭. সালাম এ খান, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১২৮. আশরাফুল ইসলাম আরিফ, সাংবাদিক, ১২৯. জোহরা খাতুন কলি, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩০. সিমি হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩১. আব্দুল হাফিজ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩২. সুলায়মান মুজিব, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩৩. ফারুক পলাশ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩৪. সৈয়দ শরীফ আহমেদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩৫. ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, সাংবাদিক, ১৩৬. আকমল হোসেন নিপু, কথাসাহিত্যিক, ১৩৭. সৈয়দ আফসার, কবি, সম্পাদক, ১৩৮. নাবিলা করিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৩৯. শাকেরা করিম, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৪০. আয়মান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৪১. সাদমান হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৪২. বীরেন্দ্র কুমার পাল, কবি, ১৪৩. শেরাম নিরঞ্জন, কবি, ১৪৪. হাসনাত চৌধুরী, সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট, ১৪৫. শেখ ফরায়েজী, সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট, ১৪৬. শেখ লুৎফর, কথাসাহিত্যিক, ১৪৭. ফাহাদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ১৪৮. হাসান আওরঙ্গজেব, কবি, ১৪৯. সিদ্দিকী বাপ্পী, কবি ও সম্পাদক, ১৫০. ফয়েজ আহমদ, অনুরাগী পাঠক, ১৫১. প্রণব জ্যোতি পাল, সম্পাদক ‘অধিকার, ১৫২. আসমা সুলতানা শাপলা, লেখক ও চিন্তক, ১৫৩. জান্নাত আরা খান পান্না, কবি ও অধ্যাপক।





