সৌদি এয়ারলাইন্সকে সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর আহবান মন্ত্রী আরিফের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০০:৫১ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সৌদি থেকে সিলেট সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জনিয়েছেন।
সোমবার মন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহবান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত সৌদিতে নিবন্ধিত ৯৯০টি এজেন্সিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। কর্মীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সৌদি সরকার ও দূতাবাসের সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরির প্রস্তাবও দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে আরিফুল হক চৌধুরী শুরুতেই রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রণালয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ হতে সৌদি সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।” মন্ত্রী প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘প্রবাসী কার্ড’র মাধ্যমে আসন্ন দিনগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”
বৈঠকে মন্ত্রী সৌদি দূতাবাসে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ নিশ্চিতে বর্তমানে ৭৩টি পেশায় চালু থাকা ‘দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম’র পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে (টিটিসি) সৌদি আরবের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিকায়ন এবং যৌথ তদারকিতে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, যাচাইকৃত ও দক্ষ কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ বা ‘কোয়ালিফাইড ট্যালেন্ট ব্যাংক’ তৈরি করা প্রয়োজন, যা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কয়েক সপ্তাহ থেকে মাত্র কয়েক দিনে নামিয়ে আনবে। জনশক্তি নিয়োগে যেকোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন, অনিয়ম বা কর্মী হয়রানির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তিনি রাষ্ট্রদূতকে স্পষ্টভাবে জানান। এছাড়া সৌদিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পাশাপাশি হোয়াইট কলার চাকরিতে কর্মী নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানান।
সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া শুরুতেই বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বর্তমান আলোচনার অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেসব বিষয় চুক্তিতে নেই, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আকামার ফি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বহন করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা হওয়া উচিত নয়। শিক্ষা সহায়তার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ৫০০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।




