রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল- স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৬, ৭:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ
জালালাবাদ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মাত্র আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নির্মমভাবে গলা কেটে ও খণ্ড-বিখণ্ড করে হত্যার আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে| রোববার (৭ জুন) এই ঐতিহাসিক রায়ে আসামি সোহেল রানা এবং ¯^প্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মাসরুর সালেকীন|
জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে| দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়| অপরদিকে আসামি ¯^প্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়| অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে| ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত|
এর আগে, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী ¯^প্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়| এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে| এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়| রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়| বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক|
এর আগে, গত ১৯ মে সকালে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের ভেতরে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ছোট্ট রামিসা| এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন| মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী ¯^প্না আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ, মৃত্যু ঘটানো এবং পরবর্তীতে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়|
প্রধানমন্ত্রীর ধন্যবাদ: এদিকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত বিচারকার্য সম্পাদন করায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ¯^রাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান| রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় তিনি এ ধন্যবাদ জানান|
প্রধানমন্ত্রী এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন|
তিনি বলেন, একটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত পরিচালনা, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে| মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং দোষী ব্যক্তিরা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত শাস্তি পাবে| এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আগামীতেও একই ধরনের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী|





