পোশাক রফতানিতে বড় ধাক্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৬, ৯:২০:০৩ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দেশের মোট রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসা এই খাতটিতে গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম দুর্বল প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে বাংলাদেশ ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন, আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা হ্রাস এবং ক্রেতাদের মূল্য কমানোর চাপÑ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় অংশ রফতানি হয়।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রফতানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক, যা মোট আরএমজি রফতানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।
তবে এই বাজারে রফতানি আয় কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভোক্তাদের ব্যয় কমানোর প্রবণতার কারণে পোশাক বিক্রি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও খুচরা বিক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। আলোচ্য সময়ে দেশটিতে ৭ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে, যা মোট রফতানির প্রায় ২০ শতাংশ। তবে এই বাজারেও কার্যত স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। আগের বছরের তুলনায় রফতানি আয় শূন্য দশমিক ০৪ শতাংশ কমেছে। সংখ্যাটি ছোট মনে হলেও শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে প্রবৃদ্ধি না থাকা নিজেই একটি সতর্ক সংকেত।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারে নেতিবাচক বা স্থবির প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে অপ্রচলিত বাজারেও প্রায় ৬ শতাংশ রফতানি কমে যাওয়া প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এখন প্রায় সব বাজারেই ছড়িয়ে পড়েছে।





