অপরাধ নির্মূলে এসএমপির নীতি জিরো টলারেন্স : প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৬, ৯:৫১:০১ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট মহানগর এলাকায় অপরাধ কর্মকান্ড নির্মূলে সাংবাদিকসহ সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। তিনি বলেন, অপরাধ নির্মুলে এসএমপির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। ৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ১৩৯ জনকে আটকের পাশাপাশি ৩২ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২৪৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। যা এসএমপির সফলতার অংশ।
রোববার (৭ জুন) বিকেলে উপশহরস্থ এসএমপির সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করেন। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
এসএমপি কমিশনার বলেন, সোনাতলায় শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে পুলিশের কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুততম সময়ে চার্জশীট দিতে পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া নগরীতে ছিনতাইকারী ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলমানের পাশাপাশি বিশেষ চিরুনী অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, নগর এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও ট্রাফিকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক থেকে শুরু করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য আটক করা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। পুলিশের একার পক্ষে অপরাধ নির্মুল করা সম্ভব নয়। এজন্য জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে শান্তিপূর্ণ সিলেট নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এদিকে এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরজুড়ে পুলিশের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এবার এসএমপির উদ্যোগে নগরীর সবকটি থানায় একযোগে ৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেয়া হয়।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়। এসময় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, ৪ ঘন্টার বিশেষ চিরুনী অভিযানে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ৩০ জন, জালালাবাদ থেকে ২৫ জন, এয়ারপোর্ট থেকে ২০ জন, দক্ষিণ সুরমা থেকে ২৭ জন, মোগলাবাজার থেকে ৬ জন এবং শাহপরান (র.) থানা এলাকা থেকে ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে গত ৩২ ঘন্টায় নগরীতে পরিচালিত সাড়াশি ও চিরুনী অভিযানে মোট ২৪৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে ১৬৯ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
শুক্রবার রাত ১২ টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২০৩ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া শনিবার রাত ১২ টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৮ ঘন্টার অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে- নিয়মিত মামলার ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত, মাদকসেবী- মাদক ব্যবসায়ী, বিনা পরোয়ানা, ছিনতাইকারী, চোর, সন্দেহজনক ও মেট্রো অধ্যাদেশ মোতাবেক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিগণ রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্য থেকে ১৩৯ জন আসামীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধের জন্য নানা মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময়ে ২৪৪ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি অভিযানে ৪১ পিস ইয়াবা, ৮ লাখ ১৯ হাজার পিস ভারতীয় শেখ নাসির উদ্দিন বিড়ি, ৫৬০ পিস ভারতীয় চকলেট ও ১২৫০ কেজি ভারতীয় চাপাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের পৃথক পৃথক অভিযানে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬০টি যানবহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং ১০৯টি যানবাহন আটক করা হয়।




