বাংলাদেশি সন্দেহে ‘পুশব্যাক’ বেআইনি ও অসাংবিধানিক : বদরুদ্দিন আজমল
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুলাই ২০২৬, ৭:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে লোকজনকে ধরে এনে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘পুশব্যাকের’ তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (আইইইউডিএফ) প্রধান বদরুদ্দিন আজমল| এই চর্চা ‘বেআইনি’ এবং ‘ভারতের সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থি’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি|
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার পুশব্যাক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আজমল বলেন, পুশব্যাক সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ| এটি ভুল এবং এমনটা হওয়া উচিত নয়| এটি একটি অত্যাচার| তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা এবং নির্বাসনের ক্ষেত্রে সব পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের নির্দেশনায় পরিচালিত হতে হবে| এ যুগে বিশ্ব কিছু নিয়ম ও সংবিধানের ওপর চলে| ভারতের সংবিধানের কথা যদি বলি, যারা এই কাজগুলো (পুশব্যাক) করছে, তারা আসলে সংবিধানকে সম্মান করে না|
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের এই প্রভাবশালী মুসলিম নেতা লোকসভার ধুবড়ী আসনের সদস্য| তিনি আসাম রাজ্যের জমিয়ত উলামায়ে হিন্দেরও সভাপতি| ২০১৫-১৬ সালে জর্ডানের রয়্যাল ইসলামিক স্ট্রাটিজিক স্টাডিজ সেন্টারের প্রকাশিত বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলমানের তালিকাতেও ছিলেন আজমল|
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগে সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়| সে সময় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বহু মানুষকে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শুরু হয়|
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় বিজয়ের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে আবার ‘পুশব্যাক’ চেষ্টা বেড়ে যায়| কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে রাজ্যের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিকবার ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ পুশব্যাক করার হুমকি দিয়েছেন| সন্দেহভাজনদের আটক রাখতে জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টারও করেছে রাজ্য সরকার|
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও গত মে মাসে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ পুশ ব্যাক নিয়ে বিরূপ ও আগ্রাসী মন্তব্য করেন| তার এই বক্তব্য নিয়ে সে সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করেছিল বাংলাদেশ সরকার|






