মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুলাই ২০২৬, ৭:৪২:৫০ অপরাহ্ন
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে (ইমিগ্রেশন ডিপো) থাকা প্রায় পাঁচ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে দেশটির সামরিক জান্তা সরকারের কাছে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মালয়েশিয়া। এ ঘোষণার পর দেশটিতে অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী ও অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক লুকানিসমান আওয়াং গত ২৩ জুলাই সিনেটে জানান, মিয়ানমারের সামরিক সরকার এসব নাগরিককে গ্রহণে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হলে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজ তাদের নিতে মালয়েশিয়ায় আসবে।
অভিবাসী অধিকারকর্মীদের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের অনেককে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হতে পারে, ফলে তারা ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ হারাবেন। তবে বৈধ পাসপোর্টধারীরা আইনগতভাবে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে, বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গণহারে প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা শরণার্থী সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এরই মধ্যে গত ২৩ জুলাই মালয়েশিয়া সরকার নতুন শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র (রিফিউজি কার্ড) প্রদান কার্যক্রমও স্থগিত করেছে। ফলে নিবন্ধনের অপেক্ষায় থাকা হাজারো মিয়ানমার নাগরিকের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মিয়ানমারের নাগরিকদের সহায়তাকারী মানবিক কর্মীরা জানিয়েছেন, যাদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে তাদের অনেকের শরণার্থী আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। তারা জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এদিকে, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, অতীতে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো অনেক মিয়ানমার নাগরিককে দেশে ফিরে সামরিক বাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শরণার্থী অধিকারকর্মীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো মানে তাকে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যদিও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের সদস্য নয়, তবুও দীর্ঘদিন ধরে মানবিক বিবেচনায় ইউএনএইচসিআরকে শরণার্থী নিবন্ধনের অনুমতি দিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসন ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে সরকার ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত এবং অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন জোরদারের পদক্ষেপ নিয়েছে।






