মালয়েশিয়ায় দুই অভিযানে ১৭৪ বাংলাদেশিসহ ৩৩৭ অভিবাসী আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৬:১২ অপরাহ্ন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় জাল ই-পিএলকেএস (অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ অনুমতিপত্র) ও পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরি করার ঘটনায় পৃথক দুই অভিযানে ১৭৪ বাংলাদেশিসহ ৩৩৭ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কুয়ালালামপুর ও সেপাংয়ে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য জাল ই-পিএলকেএস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে জালান চানসাউলিনের একটি বাণিজ্যিক এলাকায় এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারের আশপাশে ‘অপস সারকাপ’ পরিচালনা করে অভিবাসন বিভাগ। একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ২৩ থেকে ৪৮ বছর বয়সী ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন নারী। তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল নথি তৈরির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রতিটি জাল ই-পিএলকেএস তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রায় ৭০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ১০টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তৈরি করা কয়েকটি জাল ই-পিএলকেএস ও পুলিশ প্রতিবেদনও উদ্ধার করা হয়।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, জাল নথিগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট আবেদনে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাসপোর্টগুলো কীভাবে চক্রটির হাতে পৌঁছেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানস্থলের আশপাশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি, দুজন ইন্দোনেশীয় নারী ও একজন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে চালানো অভিযানে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত পিএলকেএস ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার একটি আন্তর্জাতিক মানের মোটরস্পোর্টস কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণস্থল, গুদাম ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার বিভিন্ন স্থাপনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারির পর পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখা অভিযানটি চালায়। এতে ৮৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। মোট ২৬১ জনকে তল্লাশি করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২১৭ জন বিদেশি ও ৪৪ জন মালয়েশীয় নাগরিক।
তল্লাশির পর ২৩ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশীয় এবং নয়জন পাকিস্তানি নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এমন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের পিএলকেএস অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে সামাজিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রের অপব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।
আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট সহায়ক স্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করছে। বৈধ নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের আশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় একই সময়ে পরিচালিত দুই অভিযানে জাল নথি ব্যবহার, অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ওয়ার্ক পারমিটে কাজ এবং পাসপোর্ট-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো সামনে এসেছে। ফলে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ নথিপত্র সংরক্ষণ এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়ে সতর্ক থাকার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।






