নৈতিকতা-দক্ষতার সমন্বয়ে দেশ গড়ার আহ্বান : এমসি কলেজে শিবিরের নবীনবরণে জাহিদুল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২২:৪৩ অপরাহ্ন

এমসি কলেজ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, দেশ ও সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, আদর্শ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শুধু ভালো সার্টিফিকেট নয়, আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় স্কিল অর্জন করে অন্যদের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এমসি কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির প্রত্যয়’ নিয়ে কলেজ ছাত্রশিবির এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভালো কিংবা খারাপ হওয়া প্রত্যেকের নিজের হাতে। বাবা-মায়ের স্বপ্ন বিফলে না দিয়ে নিজেকে ভালো পথে রাখতে হবে, পড়ালেখা করতে হবে এবং যোগ্য হয়ে গড়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও আদর্শ জীবন গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে ছাত্রশিবির পাশে থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এমসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আবু তাহের মিসবাহের সভাপতিত্বে ও কলেজ সেক্রেটারি অলিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজির হোসাইন জুয়েল, সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু ও মহানগর শিক্ষা সম্পাদক সাইফুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, এমসি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, শাহজাহান আলী, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক, আবু তাহের ফাহিম, এনামুল ইসলাম এনাম ও ইসমাইল খান সৌরভ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুম্মান আহমদ। পরে দিশারী শিল্পীগোষ্ঠীর বরণসঙ্গীতের সঙ্গে ফুল দিয়ে নবীনদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নবীনদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ইংরেজি বিভাগের কাজী তাসকিয়া ও ইতিহাস বিভাগের মুহিতুর রহমান। আলোচনা ও বরণ পর্ব শেষে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুস্তায়িনুর রহমান মওদূদ। এছাড়া নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন রচনা প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৫০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে সার্টিফিকেট ও অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়। অডিটোরিয়ামের বাইরে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনও অনুষ্ঠিত হয়। পরে সভাপতি মো. আবু তাহের মিসবাহের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়।





