মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক জুবায়ের ও মাসুম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন

লন্ডন থেকে সংবাদদাতা : ব্রিটেনে বাংলা সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও কমিউনিটির কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মুহাম্মদ জুবায়ের ও আ স ম মাসুম। চতুর্থ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর আয়োজনে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। বার্মিংহামের নিউ বিংলে হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে দুই সাংবাদিকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বার্মিংহাম মেইলের সম্পাদক গ্রায়াম ব্রাউন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম, পেশাগত উৎকর্ষ ও কমিউনিটি সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২১ জন সফল ব্রিটিশ বাংলাদেশি ও অন্যান্য ব্রিটিশ ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্রিটেনের ১৫টি সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মিছবাউর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে মুহাম্মদ জুবায়ের ও আ স ম মাসুম ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদ, সমস্যা, সম্ভাবনা ও অর্জন তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গণমাধ্যমের পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব এবং সামাজিক উন্নয়নেও তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এসব অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবারই প্রথম দুজনকে মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ মুহাম্মদ জুবায়ের প্রায় দুই দশক ধরে সাংবাদিকতা, টেলিভিশন সম্প্রচার, গণমাধ্যমের নেতৃত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নে কাজ করছেন। ১৯৯৬ সালে ঢাকার প্রেস ইনস্টিটিউটে সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁর পেশাগত প্রস্তুতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে বিবিসি একাডেমি, গার্ডিয়ান মাস্টারক্লাস এবং চ্যানেল ফোরের অধীনে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ২০০৬ সালে চ্যানেল এস-এ যোগ দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর সাংবাদিকতা করেন জুবায়ের। করোনাকালে ব্রিটিশ কারি শিল্পের সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ২০২১ সালে ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডসে বিশেষ স্বীকৃতি পান তিনি। তাঁর নাম ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০১ জন বিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি গ্রন্থেও স্থান পেয়েছেন তিনি। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে সংগঠনটির সভাপতি, দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অপরদিকে বাংলাদেশের সংবাদপত্র থেকে ব্রিটেনের টেলিভিশন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আড়াই দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে সাংবাদিক আ স ম মাসুমের। ২০০০ সালে দৈনিক প্রথম আলোয় লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৩ সালে চ্যানেল এস বাংলাদেশে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন এবং পরের বছর সিলেট ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০৬ সালে ব্রিটেনের চ্যানেল এস-এ যোগ দিয়ে সিনিয়র প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল এস স্টার’-এর সহপ্রযোজক হিসেবেও কাজ করেন। বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান কাভার করেন। ২০১০ সাল থেকে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মাসুম। পরবর্তী সময়ে বাংলা টিভির হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সাল থেকে ইকরা টিভি ও আল খায়ের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বিশ্বের ৬০টির বেশি দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং সংকটাপন্ন মানুষের জীবনচিত্র তুলে ধরেন। ২০১২ সালে রানার টিভি প্রতিষ্ঠা করেন মাসুম। ২০১৯ সালে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রিটেনসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলেন তিনি।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবে টানা ১১ বছর বিভিন্ন নেতৃত্বস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন মাসুম। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে সংগঠনের আজীবন সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, নিজস্ব সম্পত্তি অর্জন, কার্যালয় প্রতিষ্ঠা ও গঠনতন্ত্র সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায় স্থান পান তিনি। একই বছর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে কমিউনিটিতে অবদানের জন্য ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ব্রিটেনে বাংলা সাংবাদিকতার বিকাশ, পেশাগত উৎকর্ষ, সাংবাদিক সংগঠনে নেতৃত্ব এবং কমিউনিটির কল্যাণে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে দুই সাংবাদিকের এই অর্জনকে তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।





