বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীভাঙনের শঙ্কায় দুই গ্রামের মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩২:২০ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী নৌকা থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়গাং নদীর রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে পাড় কেটে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নেতৃত্বে বালুবাহী নৌকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা হারে অর্থ আদায়ের কারণে প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি তাঁদের। এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূঁইয়া বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান। নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সত্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে মালিকানার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জমিগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ সরকারি জমি বলে উল্লেখ করছেন। বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেই জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার। তাঁদের অভিযোগ, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমির একটি অংশ বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন রুপা মিয়া। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।
আব্দুল জলিল ও আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, এসব স্থান থেকে বালু উত্তোলন বৈধ হলে জমির উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা তাঁদের প্রাপ্য অংশ পাচ্ছেন না কেন? আর উত্তোলন অবৈধ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন?
এদিকে, বারকি শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বালুবাহী নৌকা থেকে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের মারধর ও হয়রানির শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ দিয়েও তাঁরা প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় বলেন, প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে কারা চাঁদাবাজি করছে, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীর তীর ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে ফসলি জমি ও বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন তাঁরা।
তাই বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই, নদীর তীর রক্ষা, নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।






