ছাতকে কমর আলী কলেজে ৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২ জন
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭:১১ অপরাহ্ন

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রথম এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার মোট ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২ জন। পাসের হার মাত্র ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখার শিক্ষাকার্যক্রমের দুর্বলতা সামনে এসেছে।
এমন ফলাফলের পর প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, পাঠদান কার্যক্রমের মান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজ শাখায় এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়েই কোনো রকমে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানের মানবিক বিভাগের প্রধান।
প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগের প্রধান আব্দুল হাই মুহাম্মদ কামাল বলেন, কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবার প্রথমবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। কলেজে যারা ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকেই অন্য ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি। তুলনামূলক কম পয়েন্ট পাওয়া শিক্ষার্থীরাই এখানে ভর্তি হয়েছিল। এ ছাড়া তারা নিয়মিত ক্লাসেও অংশগ্রহণ করেনি।
প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. গোলাম মাহমুদ আজম ফল বিপর্যয়ের পেছনে পরীক্ষার পরিবেশ ও নকল প্রতিরোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও অনেককে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। এবার বিএনপি সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্কুল-কলেজে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এখন আর কেউ নকল করতে পারে না। পরীক্ষায় যে শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, সে-ই উত্তীর্ণ হয়। আর যে পারে না, সে উত্তীর্ণ হতে পারে না।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। পরে কলেজে শিক্ষক না থাকা ও ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নতুন কলেজ হিসেবে চালু হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষক নেইÑএমন কোনো তথ্য তাঁকে জানানো হয়নি। তাঁকে একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অবগত না করলে বিষয়টি জানা কঠিন। তবে এখন বিষয়টি জানার পর কলেজে শিক্ষক নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





