ড. শমশের আলী আর নেই
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ৮:২৫:১০ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক: বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও গবেষক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর এমিরিটাস ড. এম শমশের আলী আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক শমশের আলী। তিনি বাংলা একাডেমির একজন ফেলো এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির সদস্য ছিলেন।
বিজ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য এবং সুফি দর্শনে গভীর আগ্রহ ছিল শমশের আলীর। তিনি জালালুদ্দিন রুমিসহ ইসলামিক দর্শন, বিজ্ঞানে মুসলিমদের অবদান নিয়ে লিখেছেন। বিজ্ঞান শিক্ষা, ধর্ম, সাহিত্য, দর্শন নিয়ে বিটিভিতে অনুষ্ঠান করেছেন।
তার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘পবিত্র কোরআনে বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম অবদান’, ‘আলাদিনস রিয়েল ল্যাম্প: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’।
বিজ্ঞান সাধনায় ভূমিকার জন্য মাদার তেরেসা স্বর্ণপদক, খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ স্বর্ণপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হরিপ্রসন্ন রায় স্বর্ণপদক, জগদীশচন্দ্র বসু স্বর্ণপদকসহ নানা সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী: বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির প্রাক্তন সভাপতি শমশের আলী ১৯৩৭ সালের ২১ নভেম্বর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৫৬ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন এবং একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে শ্রেষ্ঠত্বের সঙ্গে অনার্স এবং ১৯৬০ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে আবারও ম্যানচেস্টার থেকে থিওরেটিক্যাল নিউক্লিয়ার ফিজিক্স বিষয়ে দ্বিতীয় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬১ সালে পাকিস্তান আণবিক শক্তি কমিশনে যোগ দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পিএইচডি সম্পন্ন করে ১৯৬৫ সালে দেশে ফিরে ঢাকায় আণবিক শক্তি কেন্দ্রে সিনিয়র বিজ্ঞানী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭০ সালে তিনি আণবিক শক্তি কমিশনের পরিচালক পদে নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে বিশেষ সাইটেশনের মাধ্যমে সম্মানিত করে অনারারি অধ্যাপক পদ দেয়। ১৯৮২ সালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০১০ পর্যন্ত সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন। এছাড়া ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। অধ্যাপক শমশের আলী ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরিটাস পদে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।






