ডেঙ্গু বাড়ছে, মৃত্যু ১০০ ছুঁইছুঁই
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ৯:৪১:৩৯ অপরাহ্ন
জালালাবাদ রিপোর্ট : দেশজুড়ে এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন। এসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২৫ জন। আর চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৯৮ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৭৩৫ জন। শনিবার (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪১ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৬ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ২২ হাজার ৩০৪ জন। অন্যদিকে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৩৫ জন। তাদের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৩ দশমিক ৩০ শতাংশ নারী।
এদিকে, ঢাকা মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগী ক্রমাগত বাড়ছে। ঢামেকে এফসিপিএস কোর্সে প্রশিক্ষণরত চিকিৎসক নাজমুল সাকিব বলেন, এখানে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের।
তিনি বলেন, আমরা কেবল তাদেরকেই ভর্তি নিচ্ছি যাদের অবস্থা গুরুতর অথবা যাদেরকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ডা. সাকিব বলেন, জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার, যেমন-শরবত, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন এবং ফলের রস পান করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এইচ এম নাজমুল আহসান বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের প্রায়ই স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শহরের বড় হাসপাতালগুলোতে রেফার করা হয়।
তিনি বলেন, এই রোগীরা যখন এসে পৌঁছান, তাদের অবস্থা প্রায়ই সংকটাপন্ন থাকে। অনেকেই রাজধানীর বাইরে আক্রান্ত হলেও ঢাকার হাসপাতালে এসে মারা যান। শহরে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ার এটি একটি কারণ হতে পারে।
২০২৩ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন।






