রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের জয়
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৭:০১ অপরাহ্ন
স্পোর্টস ডেস্ক : ১০ ওভার তখন সবে শেষ হয়েছে। অদ্ভুতুড়ে এক ইনিংস খেলে আউট হয়ে গেলেন তানজদ হাসান। দল তখন প্রবল চাপে। লক্ষ্য মনে হচ্ছিল নাগালের বাইরে। কিন্তু তাওহিদ হৃদয় আর পারভেজ হোসেন ইমন হয়তো ভাবলেন, এ এমন কী! অসাধারণ পাল্টা আক্রমণে চোখের পলকে খেলার মোড় বদলে দিলেন দুজন। পরে শামীম হোসেন খেললেন চোখ ধাঁধানো কিছু শট। রান তাড়ার মাঝামাঝি পর্যন্ত মিইয়ে থাকা দল অবিশ্বাস্যভাবে দুই ওভার বাকি রেখেই জিতে গেল রেকর্ড গড়ে।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টিতে সিরিজের প্রথমটিতে নিউ জিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে সোমবার কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লেভারের ফিফটিতে কিউইরা ২০ ওভারে তোলে ১৮২ রান।
বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে তুড়ি বাজিয়েই। হৃদয় অপরাজিত থাকেন ২৭ বলে ৫১ রান করে। কার্যকর ছোট্ট ঝড়ে ১৪ বলে ২৮ করেন পারভেজ। ফিনিশার শামীম নিজের সেরা ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখিয়ে ১৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৩১ রানে। প্রথম ১০ ওভারে ৭৭ রান করা দল পরের ৮ ওভারে তোলে ১০৬ রান।
দেশের মাঠে বাংলাদেশের রান তাড়ায় জয়ের কীর্তি এটি। গত নভেম্বরে এই মাঠেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়ায় জয় ছিল আগের রেকর্ড।
সোমবার চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে নিউজিল্যান্ড। ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে কিউইরা। জবাবে ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটি চেষ্টা করেছিল ভালো করতে। ৪১ রান এনে দেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ১৬ বলে ১৭ কেরে কাটা পড়েন নাথান স্মিথের বলে। ওয়ানডাউনে নেমে অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২১। তাকে বোল্ড করেন ইশ সোধি। সোধির বলে আরেক ওপেনার তামিম ফেরেন ২৫ বলে ২০ রানে মন্থর ইনিংস খেলে।
এরপর হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয়। সাগরিকায় চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ছোটান তিনি। তাকে সঙ্গ দেন পারভেজ হোসেন ইমন। রান-বলের ব্যবধান কমিয়ে ইমন ফেরেন ১৪ বলে ২৮ রানে। তবে, অবিচল ছিলেন হৃদয়। মাঠ ছাড়েন দলকে জিতিয়েই। ২৭ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। হৃদয়ের কাজ সহজ করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ১৩ বলের ক্যামিওতে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় অপরাজিত ৩১ রান করেন শামীম। বাংলাদেশও ২ ওভার ও ৬ উইকেট হাতে রেখে নোঙর ফেলে জয়ের বন্দরে। কিউইদের পক্ষে সোধি দুটি এবং স্মিথ ও ক্লার্কসন নেন একটি করে উইকেট।
টস জিতে বোলিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। দ্বিতীয় ওভারেই অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করেন বোলার ও ফিল্ডার মিলে। তানজিম হাসান সাকিবের ডেলিভারিতে রান আউট হন নিউজিল্যান্ড ব্যাটার টিম রবিনসন। মাত্র এক বল খেলে তাওহিদ আফ্রিদির হাতে কাটা পড়েন রবিনসন। ১১ রানে প্রথম উইকেট হারায় কিউইরা।
দ্রুত সাফল্য পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। কেইটেন ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার মিলে চালকের আসনে বসান সফরকারীদের। প্রথম ৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ৬১ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড। ঝড়ো বেগে দুজন যখন রান তুলছিলেন, তখন পাল্টা আঘাত হানেন রিশাদ হোসেন। ২৮ বলে ৫১ করা ক্লিভারকে লেগেবিফোরের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি কিউই ব্যাটার। দলীয়ে ৯৯ রানে ভাঙে ৮৮ রানের জুটি।
ইনিংসের ১২তম আর রিশাদের ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন ক্লার্ক। কিছুটা পেছনের দিকে সরে গিয়ে সেটি তালুবন্দি করেন হৃদয়। ক্লার্ক ফেরেন ৩৭ বলে ৫১ রান করে।
তানজিম সাকিব ফেরান বেভন জ্যাকবসকে। রিশাদের ক্যাচ বানিয়ে এক রানের বেশি করতে দেননি জ্যাকবসকে। ডিন ফক্সক্রফটকে বোল্ড করে কিউই ব্যাটিংয়ে খানিকটা লাগাম টেনে ধরেন শেখ মেহেদী।
বাংলাদেশের ওপর চড়াও হওয়ার আভাস দিচ্ছিলেন কিউই কাপ্তান নিক কেলি। ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি শরিফুল ইসলামের কারণে। শরিফুলের বলে শর্ট ফাইন লেগে তানজিম সাকিবের তালুবন্দি হন কেলি।
শেষে দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রানে ভর দিয়ে ১৮০-র ঘর পার করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ দুটি এবং শরিফুল, সাকিব ও মেহেদী পান একটি করে উইকেট।
ওয়ানডেতে প্রচণ্ড গরমে গ্যালারি ছিল প্রায় ফাঁকা। এই টি-টোয়েন্টিতে গ্যালারি ভরে না উঠলেও দর্শক ছিলেন বেশ। দারুণ আবহে তারা মাতিয়ে রেখেছিলেন চারপাশ। শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়েন তারা উচ্ছ্বাস নিয়েই। সিরিজের পরের ম্যাচ কাল বুধবার।




