খেলাপি ঋণে শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৬, ৮:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন
জালালাবাদ ডেস্ক: কাগজে কলমে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের বোঝা হালকা করতে বেশ কিছু ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক| এসবের মধ্যে রয়েছে ঋণ পুনঃতফসিল, নীতি সহায়তা ও বিশেষ ছাড়| এতসব ছাড়ের মধ্যে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি, উল্টো অবনতি হয়েছে| অর্থ্যাৎ লাফিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণের হার| বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে| প্রতিবেদন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর| প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে| এর পরের অবস্থানে রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো, এসব ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ| বেসরকারি ব্যাংক ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংক ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ খেলাপি|
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের মোট ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬’শ ৬৮ কোটি টাকা| এর আগে গত বছরের ডিসে¤^র শেষে এর পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯’শ ১৫ কোটি টাকা| অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা| এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭শ’ ৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ| এর আগে, গত ডিসে¤^রের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২শ’ ১৭ কোটি টাকা যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ| অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে এক দশমিক ৬৬ শতাংশ| তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪শ’ ৮৮ কোটি টাকা|
খেলাপিতে শীর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬’শ ৮৫ কোটি টাকা| এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭’শ ৮৫ কোটি টাকা| যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ| এর আগে গত বছরের ডিসে¤^র শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার এক’শ ৮ কোটি টাকা| জানুয়ারি থেকে মার্চ তিন মাসে এই খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক দশমিক ৪১ শতাংশ|
খেলাপিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো| এই খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ ৪৭ হাজার ৮৫ কোটি টাকা| এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ| এর পরের অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো| বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা| এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ| বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৬৭ হাজার ৬শ’ ২৮ কোটি টাকা| এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ২শ’ ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের চার দশমিক ৮২ শতাংশ|
বিশেষ ছাড়ের পরও কমেনি খেলাপির পরিমাণ: কয়েক মাস আগে কাগজে কলমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক| কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাত্র দুই শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয়| এ ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর| ঋণ নিয়মিত হলে প্রথম দুই বছর ঋণ পরিশোধে বিরতি (গ্রেস পিরিয়ড) পাওয়া যায়| প্রথম দফায় গত বছরের জুন পর্যন্ত যেসব গ্রাহক খেলাপি ছিলেন, তারাই এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন| পরে এ সময়সীমা ওই বছরের নভে¤^র পর্যন্ত বাড়ানো হয়| সর্বশেষ গত মাসে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে তা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে| এছাড়া, নীতি-সহায়তার আওতায় ১ হাজার ৫’শ ১৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন আসে| এর মধ্যে ৩’শ টি গ্রুপের ৯’শ টি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে| ব্যাংকগুলো ২শ’ ৫০টি ঋণ আবেদন বাস্তবায়ন করেছে| এর মাধ্যমে ২৬ হাজার ১১৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে|
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে অথবা মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়| এসব প্রতিষ্ঠানকে সচল ও চাঙা করতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক|
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, গত ডিসে¤^রে বিশেষ সুবিধার কারণে ডিসে¤^র প্রান্তিকে খেলাপির হার কিছুটা কমেছিল| এর ফলে মার্চ প্রান্তিকেও এর পরিমাণ কমে আসবে বলে আমাদের ধারণা ছিল, কিন্ত তা হয়নি|




