কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসক : ওসমানীতে রোগীদের দুর্ভোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জুন ২০২৬, ৯:৫২:৫৯ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (সিওমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে এ কমবিরতি শুরু হয়। কর্মবিরতির পাশাপাশি সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সীমাহিন দুর্ভোগের শিকার হন। বিপাকে পড়েন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীগণ। এছাড়া হামের বিশেষ ইউনিটের রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় দায়িত্বরত চিকিৎসকদের। কর্মবিরতি প্রত্যাহার করতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে হাসপাতাল কর্তপক্ষ বিশেষ বৈঠকে বসলেও কোন সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা: কে. এম হুমায়ুন কবির জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যঘাত ঘটলেও আমাদের স্থায়ী চিকিৎসকগণ সেটি কাটিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া জরুরী বিভাগ ও বিশেষ ইউনিটের ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে নিয়ে বসেছিলাম। সরকার ইতোমধ্যে তাদের অনেক দাবীই মেনে নিয়েছে। কিছু দাবী বাকী আছে। তারা কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করে কর্মসুচী প্রত্যাহারের ব্যাপারে আমাদেরকে আশ^স্ত করেছে। আশা করছি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার হবে।
রোববার সকাল থেকে ব্যানার ও বিভিন্ন দাবি সম্বলিত প্লেকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ। এসময় ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন তারা। তাদের দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হলো, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা।
তাদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন, ইন্টার্ন ডাক্তারদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।
এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার কারণে পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি অবিলম্বে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এই ছাত্র ধর্মঘট ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, এই কর্মসুচী শুধু সিলেটে কিংবা ওসমানীতে নয়, একযোগে দেশব্যাপী চলছে। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের দাবী যৌক্তিক। আশা করি সরকার আমাদের দাবী দ্রুত মেনে নিবে। তাহলে আমরা কর্মসুচী প্রত্যাহার করবো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকেছিলেন আমরা আমাদের দাবী পেশ করেছি। কেন্দ্রের সাথে সমন্বয় করে কর্মসূচীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




