বাস্তব, না কল্পনা বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় যাবে শ্রমিক!
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন
গতকাল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানী নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে| এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি আবার খুলেছে| সরকার এটিকে ঐতিহাসিক অর্জন বললেও এ ব্যাপারে ধোয়াশা কাটছে না| বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে রয়েছে খোদ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ রিক্রুটিং এজেন্সী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা|
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (রোয়েসেল) মাধ্যমে বিনা খরচে দেশটিতে ১০ হাজার শ্রমিক পাঠানো হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে| তবে এ প্রসঙ্গে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে তা-ও বলতে পারেনি বোয়েসেল| ২৫টি মূল এজেন্সীর অধীনে থাকা ১০টি করে সহযোগী এজেন্সীর ভূমিকা কী, তারা কি সরাসরি ডিমান্ড আনতে ও কর্মী পাঠাতে পারবে কি-না, এ নিয়েও ধোয়াশা রয়েছে খোদ মন্ত্রণালয়েই| গত ২৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার বিদেশী কর্মী নিয়োগ প্লাটফর্ম এফডব্লিুউসিএমএস ৩৩৮টি বাংলাদেশী এজেন্সীর তালিকা প্রকাশ করা হয়| এর আগে ২১ আগস্ট ২৫টি এজেন্সীর তালিকা প্রকাশের পর সিন্ডিকেটিংয়ের অভিযোগ ওঠে| সরকারের অনুরোধের পর ২৫ টি প্রধান এজেন্সীর অধীনে ২৫০ টি এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি, মোট ৩১২ টি এজেন্সীকে ‘সহযোগী এজেন্সী’ হিসেবে যুক্ত করে তালিকাটি ৩৩৮টিতে নেওয়া হয়| তবে অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় থাকা অনেক এজেন্সীর বিদেশে কর্মী পাঠানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই| ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরোনো সিন্ডিকেটই নতুন মোড়কে ˆবধতা পাচ্ছে| সহযোগী এজেন্সীগুলো মূলত: আইওয়াশ| এতে কর্মীর খরচও বাড়বে| আগে এজন কর্মীকে মালয়েশিয়া যেতে ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করতে হতো, এখন লাগবে ৭-৮ লাখ টাকা| কারণ মূল এজেন্সী ছাড়া কর্মী পাঠানো যাবে না, সহযোগী এজেন্সীগুলোকেও টাকা দিতে হবে| আগের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের যে নামগুলো দিয়েছে, সেগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ জনশক্তি, রফতানীকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রা’র|
উল্লেখ্য, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সী নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকারের কোন হাত নেই, এমন দাবি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের| কারণ, এ চুক্তির শর্ত আওয়ামী লীগ সরকার ˆতরী করে গেছে| বিগত সরকার তাদের ¯^ার্থেই চুক্তি করেছে| অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়া শ্রম বাজারে সিন্ডিকেটিং ও অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন কয়েকজন সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়| বাতিল হওয়া এজেন্সীগুলোর মধ্যে ছিলো সাবেক অর্থমন্ত্রী আ. হ. মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দু’টি এজেন্সী|
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, মালয়েশিয়া শ্রম বাজার নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে যেভাবেই হোক কর্মী পাঠানো শুরু করতে হবে| এই প্রক্রিয়াটিতে আগের মতোই সিন্ডিকেটিং বিদ্যমান| এই সিন্ডিকেটিং প্রক্রিয়ায় কোন পরিবর্তন আনা হয়নি| আসলে এটা সমাধান নয়|
তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়| এখন যে ২৫ এজেন্সীর মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে নাম প্রকাশের পাশাপাশি সেগুলোর অতীত নিয়ে একটি প্রতিবেদনও ˆতরী করা উচিত| সেই প্রতিবেদনে যদি কোন এজেন্সীর সমস্যা পাওয়া যায়, তাহলে তা মালয়েশিয়া সরকারকে জানাতে হবে তারা যেনো এটিকে তালিকা থেকে বাদ দেয়|
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে গত ২৮ আগস্ট প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতি, দুঃশাসন, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের কারণে বন্ধ থাকা শ্রমবাজারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ¯^চ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে| বিদ্যমান বহুবিধ নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও একযোগে বাংলাদেশের ৩৩৮ টি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সীর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের এই সুযোগ একটি ঐতিহাসিক অর্জন| প্রবাসীকল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই| বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবে| প্রশ্ন হচ্ছে, প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবক্ষেত্রে কতোটুকু বাস্তবায়িত হবে? বিষয়টা কি অতিরিক্ত আশাবাদ নয়?






