বিদ্যুতে টানাপোড়েন থামছেই না
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬:২৯ অপরাহ্ন
রামপালে ধাক্কা, আদানিতে স্বস্তি

জালালাবাদ রিপোর্ট : বিদ্যুৎ উৎপাদনে টানাপোড়েন কাটছেই না। একদিকে কারিগরি ত্রুটিতে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে, অন্যদিকে প্রায় এক মাস পর আদানির দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় সরবরাহ বেড়েছে। দুই কেন্দ্রের বিপরীতমুখী পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি-অস্বস্তি দুটোই একসঙ্গে চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২ কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইউনিটটি বন্ধ করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
বন্ধ ইউনিটটি কবে চালু হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। জহুরুল ইসলাম বলেন, ইউনিট বন্ধের পর সেটি কুল ডাউন হতে সময় লাগে। এরপর সম্ভবত ভারত থেকে দুজন প্রকৌশলী এসে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। বিষয়টি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দুদিন পর চালুর বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট রোববার ভোরে ফের উৎপাদনে যায়। দুপুর ২টা নাগাদ এ ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে তখন প্রায় ১ হাজার ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ধীরে ধীরে আরও বাড়তে পারে।
কয়লা সংকটের কারণে গত এক মাস আদানি কেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক ছিল না। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে সেখানে উৎপাদন কমে যায়। পরে কয়লা সরবরাহ বাড়ায় গত মাসের শেষ দিকে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আদানির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। কিন্তু ওই রাতেই কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে লোডশেডিং বেড়ে যায়। দ্বিতীয় ইউনিটটি ফের চালু হওয়ায় সেই ঘাটতির ওপর কিছুটা চাপ কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামপালের বন্ধ ইউনিট দ্রুত উৎপাদনে ফিরতে না পারলে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে আদানির দুই ইউনিট থেকে সরবরাহ আরও বাড়ানো গেলে সেই চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। ফলে সামনের কয়েকদিনে রামপালের ইউনিটটি কত দ্রুত চালু হচ্ছে এবং আদানি কতটা সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে-তার ওপর সরবরাহ পরিস্থিতির বড় অংশ নির্ভর করছে।






