স্বচ্ছতার উদ্যোগে বড় ধাক্কা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭:৪৫ অপরাহ্ন
শাহজালাল মাজারে দানের ৬৫% বণ্টন আগের নিয়মে

স্টাফ রিপোর্টার : দানের টাকা গণনা, আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস পর সেই কাঠামো চূড়ান্ত হলেও দানের ৬৫ শতাংশ অর্থ আগের নিয়মেই মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উন্নয়নকাজে রাখা হবে মাত্র ৩৫ শতাংশ। ফলে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা পরিবর্তন আনল, তা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এখন থেকে প্রতিদিন মাজারের দানের টাকা গণনা করা হবে। গণনা করা অর্থের ৩৫ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হবে। হিসাবটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন ব্যয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো হবে।
টাকা গণনা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। ম্যানেজার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। মাজার পরিচালনায় ৭ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন আহ্বায়ক। সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ, সিলেট মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধিরা সদস্য থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি থাকবেন সদস্য সচিব। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। উক্ত কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
জানা গেছে, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে গত ১৮ জুন আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহের তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। এনিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপির নেতৃত্বে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আড়াই মাস।
এদিকে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করে জেলা প্রশাসনের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হচ্ছিল। এসময়ে চার দফায় গণনা করা হয় দানের টাকা। ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ করা হলে মোট দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা।
চার দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে নগদ পাওয়া গেছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে যোগ করা ৫ লাখ টাকা ধরলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। প্রতিটি গণনায় নগদ অর্থের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ঘটিয়ে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হলেও দানের ৬৫ শতাংশ আগের নিয়মে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পরও বড় অংশের অর্থ আগের কাঠামোতেই ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।






