বাস-ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রী-হেল্পার বাকবিতণ্ডা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২০:১৭ অপরাহ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও সিলেটে কার্যকর হয়েছে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে। এদিকে বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন রুটে নতুন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগে যাত্রীদের সঙ্গে চালক-হেলপারদের বাকবিতণ্ডাও হচ্ছে। বিআরটিএর পুনর্র্নিধারিত হার অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিলেট সার্কেল থেকে পুনর্র্নিধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, আগে দূরপাল্লার বাসের প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা। এখন তা বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে। তবে গ্যাস, অকটেন ও পেট্রোলচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এসব যানবাহনে আগের নির্ধারিত ভাড়াই বহাল রয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ২বার জ¦ালানী তেলের দাম বাড়লেও আন্তঃজেলা রুটে বাস-ভাড়া বাড়েনি। শুধুমাত্র দুরপাল্লায় ভাড়া বেড়েছিল। এক সাথে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া সমন্বয়ের কারণে বাস-ভাড়া তুলনামুলক বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যাত্রীসাধারণের মাঝেও বেশী ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাস মালিক কর্তৃপক্ষের দাবী কিছুদিন গেলে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
বিআরটিএর সিলেট সার্কেলের তালিকা অনুযায়ী, সিলেট-সুনামগঞ্জ রুটের ৫৯ কিলোমিটার দূরত্বে ৪০ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া ১৪২ টাকা থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেট-জকিগঞ্জ (বারইগ্রাম-সুতারকান্দি) ৮৯ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে জনপ্রতি ভাড়া ২১৪ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ২৭৩ টাকা। সিলেট-ছাতক ২৯ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা।
টোলযুক্ত রুটগুলোতে টোলের অর্থ যুক্ত করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-দিরাই ৭৫ কিলোমিটার রুটে ৩৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ভাড়া ২১৫ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ২৬৫ টাকা। সিলেট-কুলাউড়া-ফেঞ্চুগঞ্জ ৬১ কিলোমিটার রুটে ৬৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ১৪৬ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৮৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সিলেট-শেরপুর ৩৭ কিলোমিটার রুটে ৩৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ৮৯ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ১১৩ টাকা এবং সিলেট-বিশ্বনাথ-রামপাশা ২৪ কিলোমিটার রুটে ৬ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ৫৮ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য দূরপাল্লার রুটের মধ্যে সিলেট-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার ৮৩ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৯৯ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ২৫৪ টাকা, সিলেট-জাফলং-তামাবিল ৫৮ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা ও ৫১ আসনের বাসে ১৭৭ টাকা এবং সিলেট-গোয়াইনঘাট (ভায়া সালুটিকর) ৩৮ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ৯১ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ১১৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সিলেট-মৌলভীবাজার (ফেঞ্চুগঞ্জ ও মুন্সিবাজার) ৬৩ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৫১ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ১৯৩ টাকা এবং সিলেট-চন্দরপুর ২৭ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ৬৫ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি হঠাৎ কার্যকর হওয়ায় অনেকেই নতুন হার সম্পর্কে জানেন না। ফলে বাসে ওঠার পর ভাড়া নিয়ে চালক-হেলপারের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও উঠছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী আকবর রাজন বলেন, বাসগুলোকে সরকারের নির্ধারিত হারেই যাত্রীসেবা দিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি বাসের দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাড়া বাড়ানোর পর বাসের চালক-হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়। তবে কয়েকদিন গেলে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।





