সৌদী এম্বেসীর হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব সম্পন্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৭:১৩ অপরাহ্ন
হাফেজরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন: সিসিক প্রশাসক

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে পবিত্র কোরআনের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করবে এবং ইসলামি মূল্যবোধ চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস নয়, এটি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের হাফেজদের মেধা ও দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন। তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সৌদি রাজকীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের হাফেজদের বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে রাজকীয় সৌদি দূতাবাস, ঢাকা আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজকীয় সৌদি দূতাবাস বাংলাদেশের দা’ঈ শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানীর সভাপতিত্বে এবং এস এম সাইফুল্লাহ ও আসাদুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সৌদি দূতাবাসের দা’ঈ শায়েখ বদর বিন ইসহাক আল মাদানী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন এবং হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হাফিজ রশিদ আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিয়াউল হক নাসেহ।
দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে আগত ৬০ জন কৃতী হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগীরা পবিত্র কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও নিখুঁত মুখস্থ শৈলী প্রদর্শন করেন।
তিনটি গ্রুপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩০ পারা ছেলে গ্রুপে ৫ জন, ১৫ পারা ছেলে গ্রুপে ৫ জন এবং ১৫ পারা মেয়ে গ্রুপে ৪ জনসহ মোট ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়।
অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত ক্বারি ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন শায়েখ মামুনুর রশিদ আল মাদানী, হাফিজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। উত্তীর্ণরা ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অভিভাবকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি






