ছাতক ট্রমা সেন্টারে তালা, তিন বছরেও চালু হয়নি সেবা
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৪:১০ অপরাহ্ন

শাহ্ মো. আখতারুজ্জামান, ছাতক : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কৈতকে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারে তিন বছর ধরে ঝুলছে তালা। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের পরও জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে চালু হয়নি সেবা কার্যক্রম। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অকেজো পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ এটি চালু হবে, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে সরকারি দপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগ ও চিঠি চালাচালি হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কৈতক সরকারি হাসপাতালের নিকটে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ট্রমা সেন্টারটি। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবনটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে আধুনিক ভবনটি চোখে পড়লেও মূল ফটকে ঝুলছে তালা। ভেতরে লতাপাতা, মাকড়সার জালসহ অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনে স্থাপন করা ১১টি এসিও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের গুরুতর অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও জনবল না থাকায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬৮ কিলোমিটার এলাকায় আগে কোনো ট্রমা সেন্টার না থাকায় ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলার মানুষ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। তবে দীর্ঘদিনেও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশ তারা। দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে ট্রমা সেন্টারটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭ জন আহত ও ৫ জন নিহত, ফেব্রুয়ারিতে ১০ জন আহত ও ১ জন নিহত, মার্চে ১১ জন আহত ও ২ জন নিহত, এপ্রিলে ১৬ জন আহত, মে মাসে ৯ জন আহত ও ৩ জন নিহত, জুনে ১৮ জন আহত ও ১ জন নিহত, জুলাইয়ে ২৪ জন আহত ও ২ জন নিহত, আগস্টে ৩৪ জন আহত ও ২ জন নিহত এবং সেপ্টেম্বরে ৪ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন।
ধারণবাজার এলাকায় অবস্থিত হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটের লামাকাজি থেকে সুনামগঞ্জের হাসনরাজা তোরণ পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার এলাকায় গত ৯ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন আহত এবং ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক দুর্ঘটনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, মূলত জনবল সংকটের কারণে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা যাচ্ছে না। সেবা কেন্দ্রটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি। ট্রমা সেন্টারের সার্বিক অবস্থা ও জনবল নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।





