বাড়তি দামেও মিলছে না এলপিজি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৫:২২ অপরাহ্ন

জালালাবাদ ডেস্ক : পাইপলাইনের গ্যাস সংকটে বিকল্প হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও দেশব্যাপী বাজারে চাহিদামতো সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। আবার কোথায় কোথাও বেশি টাকা দিয়েও সিলিন্ডার মিলছে না। আমদানি স্বাভাবিক থাকার দাবি সত্ত্বেও সরবরাহ সংকট কেন কাটছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার মিলছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
ক্রেতারা জানান, এলাকাভেদে ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন বাজারে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ও বাজারদরের এই ব্যবধান নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
দেশে এলপিজি আমদানি প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা বাজারে সিলিন্ডার সংকট কাটছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন। অথচ বাজারে সরবরাহ কম পাওয়ার অভিযোগ করছেন ডিলাররা। আমদানি থেকে শুরু করে বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত আমদানির পরও বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার এলপিজি বিক্রেতা মো. কিবরিয়া বলেন, আগে যে পরিমাণ সিলিন্ডার আনতাম, এখন সেই পরিমাণ পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে অর্ডার দিলেও চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতারা দোকানে এসে গ্যাসের খোঁজ করছেন, কিন্তু সরবরাহ না থাকলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।
পাইকারি এলপিজি বিক্রেতা সেন্টু বেপারী বলেন, আমদানি হচ্ছে, কিন্তু আমদানি হওয়া গ্যাস আর বাজারের প্রতিটি দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পৌঁছানো এক বিষয় নয়। কোম্পানি থেকে কতটা সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে, ডিপোতে কতটা মজুত রয়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা কতটা স্বাভাবিক, সবকিছুর ওপর বাজারে সরবরাহ নির্ভর করে। আমাদের চাহিদার তুলনায় কম সিলিন্ডার পেলে খুচরা বিক্রেতাদেরও চাহিদামতো সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয় না।





