ছেলের হাতে মা খুন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৭:০৯ অপরাহ্ন

জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : সিলেটের জকিগঞ্জে টাকা ও পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার দাবিতে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় পিয়ারা বেগম (৬৩) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মধ্যরাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আড়াই বছর বয়সী এক শিশুসহ পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সুমন আহমদকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিহতের ছেলে ও আহত শাহীন আহমদের দায়ের করা মামলায় সুমন আহমদ ও তাঁর আরেক ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের বাসিন্দা সুমন আহমদ বেশ কিছুদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করে আসছিলেন। একই সঙ্গে পৈতৃক জায়গা-সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করতেন।
গত শুক্রবার সম্পত্তি ও টাকার দাবিতে সুমন তাঁর সৎমা কুটিনা বেগমকে (৪৫) বাঁশ দিয়ে আঘাত করেন। এতে তাঁর চোখে গুরুতর জখম হয়। পরে পিয়ারা বেগম সৎমা কুটিনা বেগমকে রক্ষা করতে তাঁকে অপর ছেলে শাহীন আহমদের ঘরে নিরাপদে রাখেন। পরদিন শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুমন আবারও টাকা ও সম্পত্তির দাবিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি সুপারিগাছের লাঠি দিয়ে তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ হামলায় পিয়ারা বেগম, কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), শাহীন আহমদের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জকিগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমন আহমদকে তাঁর বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করে। রোববার তাঁকে জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম সরকারের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাদী শাহীন আহমদ জানান, হামলায় তাঁর স্ত্রী, শিশুকন্যা ও সৎমা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনিও মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, হামলায় আহত পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন আহমদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দায়ের করা মামলায় নতুন করে হত্যার ধারা সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুমন আহমদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জকিগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায়ও তাঁর অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।






