মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১০:৪৭ অপরাহ্ন
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আক্তার হোসেন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার ধুপরিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জুয়েল আহমদ (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত আক্তার হোসেন ওই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় ধুপরিরপাড় মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী ও পাঁচ ও তিন বছর বয়সী দুই সন্তান রেখে গেছেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কফিল উদ্দিনের বাড়ির কাছে তাঁদের রেকর্ডীয় জমিতে একটি পুকুর রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই পুকুর থেকে মাছ ধরে আসছেন কালা মিয়া। ২০২৫ সালে কফিল উদ্দিনের লোকজন জোর করে ওই পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে কালা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর ও আক্তারসহ কয়েকজন ওই পুকুরের পানি সেচে মাছ ধরতে যান। রাত আনুমানিক ১টার দিকে কফিল উদ্দিন, আফজল হোসেন ওরফে মুন্না, জুয়েল, কয়েসসহ কয়েকজন সেখানে এসে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
বাক্বিতণ্ডার শব্দ শুনে কালা মিয়ার বাড়ির নারীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁরা আক্তার ও জাহাঙ্গীরকে বাড়িতে নিয়ে আসার পথে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনেরা। এতে আক্তার ও জাহাঙ্গীর আহত হন।
পরে গুরুতর আহত আক্তারকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, আক্তারের পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, যা শরীরের পেছনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীর আলমের মাথায়ও আঘাত রয়েছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আমীন জানান, জমিটি কালা মিয়ার বাবার সূত্রে পাওয়া। প্রায় ৫০ বছর ধরে কালা মিয়া ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। গত বছর পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বছর পানি শুকানোর পর জমি মাপজোখ করে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা ছিল। এর মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উছমান গণি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কালা মিয়ার ছেলেদের সঙ্গে কফিল উদ্দিন ও জুয়েলদের বিরোধ ও সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্তার হোসেনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জুয়েল আহমদকে সিলেট থেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।






