জামায়াতের জাতীয় মহাসমাবেশ আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুলাই ২০২৫, ১২:৩০:৫২ অপরাহ্ন
১৫ লাখ মানুষের সমাগমের আশা

স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই গণঅভ্যুথানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর রাজধানীতে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেলা ২টায় মহাসমাবেশের মূল পর্ব শুরু হবে। সাত দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহাসমাবেশ করতে যাচ্ছে দলটি। প্রতিষ্ঠার পর পল্টন ময়দান, মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করলেও এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কখনো সমাবেশ করেনি জামায়াত।
দাবিগুলো হচ্ছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও অন্যান্য সময় সংঘটিত সকল গণহত্যার বিচার করতে হবে, রাষ্ট্রের সব স্তরে প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার করতে হবে, ঐতিহাসিক জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন করতে হবে, জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদসহ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের অধিকাংশ দলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। মহাসমাবশে থেকে সমমনা কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে একটি বৃহৎ ঐক্যের ঘোষণা আসতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, জাতীয় মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দলটি। রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবে। স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা ড্রেস থাকবে। জনসভার শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজধানীর বাইরে থেকে আগত জনসাধারণের জন্য সড়ক, নৌ ও রেলপথে নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ।
জামায়াতের মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অঞ্চল ভেদে ১৫টি পার্কিং এলাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে এবং বাইরে মিলিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ১৫টি মেডিকেল বুথ থাকবে। একাধিক বেড সম্বলিত প্রতিটি বুথে দুজন করে ডাক্তার থাকবেন। জরুরি ওষুধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় সমাবেশের কার্যক্রমে আইটি টিম এবং লাইভ প্রচারের জন্য ড্রোন টু ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে সমাবেশে উচ্চমানের ভিডিও ধারণ এবং সমাবেশস্থলে বক্তব্য এলইডি স্ক্রিনে প্রদর্শন করা এবং ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব সামাজিক মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করা হবে।
জানা গেছে, জামায়াতের মহাসমাবেশে যোগ দিতে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী থেকে ৪ জোড়া স্পেশাল ট্রেন ভাড়া করা হয়েছে। বরিশাল থেকে ১৫ টা লঞ্চ ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া সিলেটসহ দেশের অন্য অঞ্চল থেকে বাসযোগে ঢাকায় মহাসমাবেশে অংশ নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। সারাদেশ থেকে ১০ হাজারের মতো বাস ভাড়া করা হয়েছে। সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তিসহ বিভাগের অন্য তিন জেলা মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় লক্ষাধিক জনশক্তি ঢাকার মহাসমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, এমনটি জানিয়েছেন দলটির নেতারা। শুক্রবার রাতে সিলেট থেকে নেতাকর্মীরা বাস ও ট্রেনযোগে ঢাকায় রওয়ানা দিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের বলেন, মহাসমাবেশ ঘিরে সবোর্চ্চ প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিহাসের সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে জাতীয় সমাবেশে। আশা করছি, ১৫ লাখ লোকের সমাগম হবে এই মহাসমাবেশে।






